শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২, ৩:২৫ পিএম
চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে কে হচ্ছেন ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠে সরব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কে হচ্ছেন চাঁদপুর সদর ১ নং ওয়ার্ড জেলা পরিষদ সদস্য।

এ দিকে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রার্থীরা চালাচ্ছেন বিভিন্ন রকম প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে চালাচ্ছেন প্রচারণা। বসে নেই প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার ছাড়াও প্রার্থীদের নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের কাছে করছেন ভোটের আবেদন নিবেদন। প্রতিদিনই প্রার্থীদের পক্ষে চলছে ভোট প্রার্থনা। তুলে ধরছেন নিজ পছন্দের প্রার্থীর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা। পুরুষের পাশাপাশি বাদ পড়ছেন না নারীরাও। নিজদের পক্ষে ভোট টানতে কাজে লাগানো হচ্ছে ভোটারদের আত্মীয়- স্বজনকে। ভোট যুদ্ধে বিজয়ী হতে চালানো হচ্ছে না কৌশল। তারপরও প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় অনেকটা জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। আর হাতে মাত্র ২ দিন। ভোটের দিন ঘনিয়ে আসায় প্রার্থীদের প্রচারণার কাজে রাত দিন একাকার। কাটছে র্নিঘুম রাত। তবে ভোটাররা জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তারাও অধিক সচেতন। তারা সহজেই যেমন কাউকে দিচ্ছেন না ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। ভোটের মাঠে প্রার্থীরা সরব হলেও ভোটাররা রয়েছেন নিরব। নির্বাচন কেন্দ্র করে শহর, পাড়ায়-মহল্লায় ও চায়ের দোকানগুলোতে এখন একটাই আলোচনা কে হচ্ছেন চাঁদপুর সদর ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের ওয়ার্ড ৮টি। সব ওয়ার্ড থেকে টপ অব দি ওয়ার্ড হচ্ছে ১নং ওয়ার্ড এবং সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ড। ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা ও প্রতীক পেয়ে থাকলেও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ মুকবুল হোসেন মিজি ও

Model Hospital
ইকবাল হোসেন পলাশ পাটোয়ারী নির্বাচন থেকে সরে গিয়েছেন। তাই নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ৫ জন।
এই ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে প্রতিদন্ধিতা করবেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী আবুল বারাকাত লিজন পাটওয়ারী (ঘু‌ড়ি),। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক (হা‌তি), জাকির হোসেন হিরু ( বৈদ‌্যু‌তিক পাখা), মোঃ শাহ আলম খান (তালা),, মোঃ মাহবুবুর রহমান (উট পা‌খি)।

উক্ত ওয়ার্ড থেকে জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোঃ মুকবুল হোসেন মিজি প্রতীক নিয়ে গতকালও মাঠে ছিলেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের নিতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিজন পাটওয়ারীকে প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

এই ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থী ২ জন। আয়শা রহমান (‌দোয়াত কলম), জোবেদা মজুমদার খুশি (ফুটবল)।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটারা সাধারণ জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ। তাই ভোটারদের মনোজয় করা খানিকটা কঠিন। প্রার্থীরা ভোটারদের ভোট বাগিয়ে নিয়ে বিভিন্ন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সকলেই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে এদের মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে রয়েছে চাঁদপুর সদর মৈশাদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মানিক ও চাঁদপুর শহর আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের সাধারণ সম্পাদক মরহুম লুৎফর রহমান পাটওয়ারীর জ্যেষ্ঠ সন্তান চাঁদপুর পৌর যুবলীগের সদস্য, আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী।

আর সংরক্ষিত নারী সদস্য দুজনের মাঝেই হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
আগামী ১৭ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চাঁদপুর সদরে মোট ভোটার ২০৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫৮ ও মহিলা ৪৮ জন। ২ টি বুথে ইভিএম এর মাধ্যমে ভোটাররা তা‌দের প্রতি‌নি‌ধি নির্বাচন কর‌বেন। পৌরসভার মেয়র, সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্যরা এ নির্বাচনের ভোটার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’