বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপর হামলায় আহত ৭

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২২, ১:৫৩ পিএম
ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপর হামলায় আহত ৭

এস এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের দিনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমেদ রাজন শেখের সমর্থক ও তার বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে পৃথক দু’টি ঘটনায় অন্তত ৭ জন আহত হয়েছে।

১৩ নভেম্বর রোববার উপজেলা পরিষদের সামনে এবং পরে প্রার্থীর বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দুই দফা হামরায় আহত হন প্রাার্থীর সমর্থক মন্তী খান (৪০), আমির হোসেন (৩৬) ও সাইফুল ইসলাম (৩৬), প্রার্থীর মা আজিমা বেগম (৫৩), বোন পপি বেগম (৩০) ফুফু তাহেরা বেগম (৫০) ও খায়েরের নেছা (৫৪)। এদের মধ্যে প্রথম তিনজনকে আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাদের চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমেদ রাজন শেখ বলেন, আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিয়ে আসছে। আমি যাতে নির্বাচন থেকে সরে যাই। সেই অনুযায়ী ১৩ নভেম্বর রোববার সকালে আমি প্রতীক নিয়ে উপজেলা পরিষদ থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগের প্রার্থীর লোকজন আমার ও আমার লোকজনের উপরে হামলা চালায়। সেখানে ৩ জন আহত হয়।

এর কিছুক্ষণ পর পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে আমার বাড়িতে হামলা করে। মোটর সাইকেল যোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসব হামলাকারীরা বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এসময় তারা আমার মা, দুই ফুফু এবং বোনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে দ্রুত ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

Model Hospital

আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ হোসেন মিন্টু পাটওয়ারী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন,‘রাজন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আজ আমি প্রতীক নিয়ে তার বাড়ির পাশ দিয়ে আসার আসার সময় সে আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলার আগে সিএনজি স্কুটার দিয়ে সে আমাদেরকে ব্যারিকেট দেয়। আমি এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিবো।’

ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের এস.আই আনোয়ার জানান, ৯৯৯ এর ফোনের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

ফরিদগঞ্জ থানা অফিসার ইনর্চাজ শহিদ হোসেন বলেন, হামলার ঘটনায় আমাদের কাছে এখন কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার কাজী আবুবক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
কচুয়ায় হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন, ঘুষ দাবি ও পক্ষপাতের অভিযোগ
কচুয়ায় একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং একপেশে প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী মোছা. আছমা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ কচুয়া আমলি আদালতে ২৫৩/২০২৫ নম্বর মামলা হিসেবে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন আছমা। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডি চাঁদপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম।
বাদীর অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা দেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই না করেই একপেশে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ আইজিপির দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দেন বাদী। এতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং অন্য কোনো নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে মামলাটির পুনঃতদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিবাদী আসমা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য মামলা দায়ের করলে, সরজমিনে তদন্ত জন্য আদালত নির্দেশ দেয়। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম আজম মামলা তদন্ত করতে আসলে আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। আমরা টাকা দেওয়ার পরও বিবাদীর কাছ থেকে আরো অধিক সুবিধা নিয়ে  একতরফা তদন্ত রিপোর্ট দেয়। আমি ন্যায় বিচারের জন্য আদালত, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।