শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাইমচরে এসএসসি-সমমানেতে পাসের হার ৯১% , এ প্লাস ৭১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ৩:১১ পিএম
হাইমচরে এসএসসি-সমমানেতে পাসের হার ৯১% , এ প্লাস ৭১
মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি : হাইমচরে ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭৭৮ জন শিক্ষার্থী কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ৭০৮ জন শিক্ষার্থী পাস করেছেন। পাশের হার হয়েছে ৯১%। জিপিএ -৫ পেয়েছেন ৭১ জন।
১০টি মাদ্রাসার ৩৪৬জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেছেন ৩১১জন। পাসের হার হয়েছে ৯৬.৪০%। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫জন।
আলআমিন মহিলা দাখিল মাদরাসার ও কাটাখালি হামিদিয়া মাদরাসা শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
হাইমচর উপজেলার বাজাপ্তী রমনী মহন উবির ১০৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৮৬.৪%। জিপিএ -৫ পেয়েছেন ৯জন। চরভৈরবী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে কৃতকার্য হয়েছে ২৫জন। পাসের হার ৮৯.২%।
চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে কৃতকার্য হয়েছেন ৭৮ জন। পাশের হার ৮৭%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭জন। দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯৪জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেছেন ৮৭জন। পাসের হার ৯২.৫%। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৬জন। ঈশানবালা এমজেএস উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩২জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেছেন ২৮জন। পাসের হার ৮৭.৫%।
গন্ডামারা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯২জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহন করে ৭৬জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৮২.৬%। জিপিএ -৫ পেয়েছেন। হাইমচর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৩জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ৪২ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯৭.৬%। জিপিএ -৫ পেয়েছেন ২জন।
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৩ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ৬০জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৯.২%।  জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ জন। কেভিএন উচ্চবিদ্যালয়ে ৯২জন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেন ৮৮ জন। পাসের হার ৯৫.৬%। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩জন। এমজেএস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৩জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ৪২জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার ৯৭.৬%।
জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮জন। মোয়াজ্জেম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২১জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেছেন ২০জন। পাসের হার ৯৫.২%। নীলকমল ওচমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ১২৯জন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেছেন ১২৩জন। পাসের হার ৯৫.৩%। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩জন। হাইমচর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ১০ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাস করেছেন ৮ জন। পাশের হার ৮০%।
ফারুক-ই-আজম (রাঃ) আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫%। গাউছুল আজম ছবরিয়া দাখিল মাদ্রাসার ৩১শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে পাস করেছে ২৮ জন। পাসের হার ৯০.৩%  চরভাঙ্গা ডিএস দাখিল মাদ্রাসায় ৩৩ শিক্ষার্থীর ৩০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯০.৯%।
চরভৈরবী আজিজিয়া আজহারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ২৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৩জন পাস করেছেন। পাসের হার ৯০.৯% জামিলায়ে মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮২.৬%। আল-আমিন আদর্শ মহিলা দাখিল মাদ্রাসা শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। গন্ডামারা এবিএস ফাযিল মাদ্রাসার ৮০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন।
আলগীবাজার আলিম মাদ্রাসায় ৪৭শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে ৪৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৩.৬%। কাটাখালি হমিদিয়া মাদরাসা ২৬জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৬ জন। পাসের হার ১০০%। কমলাপুর দাখিল মাদরাসা ৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ২৯জন। পাসের হার ৮৫.২%।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’