শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ইউপি নির্বাচনে কে কত ভোট পেলেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২১, ৩:১২ পিএম
মতলব উত্তরে ইউপি নির্বাচনে কে কত ভোট পেলেন

মতলব উত্তর ব্যুরো : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ন ভাবে ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রে ছিল নারী ও পুরুষ ভোটারের দীর্ঘ লাইন। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আইন শৃংখলা বাহিনী ছিল তৎপর। ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ ছিল দেখার মতো। নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ৩ জন ও স্বতন্ত্র ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ভোট গণনা করে উপজেলা কন্ট্রোল রুমে আসতে সময় লেগে যায় গভীর রাত পর্যন্ত।

ষাটনল ইউপি :
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফেরদাউস আলম (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৫১৮৩ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী একেএম শরীফ উল্লাহ সরকার (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৮৯৩।

সাদুল্যাপুর ইউপি :
স্বতন্ত্র প্রার্থী জোবায়ের আজীম পাঠান স্বপন (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৫৫১১ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী লোকমান আহমেদ (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৮১১, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম (ঘোড়া প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৮৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (হাতপাখা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৬৪৭।

বাগানবাড়ি ইউপি :
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৫৯৯৫ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. নান্নু মিয়া (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৪৫১।

Model Hospital

কলাকান্দা ইউপি :
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোবহান সরকার (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৩৭৯৪ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম কাদির (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ২৭২৬, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আবু ইউসুফ মিঝি (হাতপাখা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ১৯০, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল কাইয়ুম (টেলিফোন প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ১২, মো. বাবলু (ঘোড়া প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৬, শামীম আহমেদ রিপন (চশমা স্বতন্ত্র) প্রাপ্ত ভোট ৪।

এখলাছপুর ইউপি :
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না (মোটর সাইকেল প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৩১৯৭ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৩০৭৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী তরিকুল ইসলাম (হাতপাখা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ১৭৬, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ছায়ফুল ইসলাম (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ১৬৮, মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গাজী (ঘোড়া প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৫৩।

ফতেপুর পূর্ব ইউপি :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আজমল হোসেন চৌধুরী (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৬৪৬৫ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৪৪৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী বাতেন মজুমদার (হাতপাখা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৭৩০।

ফরাজীকান্দি ইউপি :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জি. মোহা. রেজাউল করীম (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ১১৬০০ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন দানেস (ঘোড়া প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৬৯৭, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী সৈয়দ হোসেন (হাতপাখা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৫৯৮, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামাল হোসেন গাজী (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ২০৪০, জাকের পার্টির প্রার্থী আ. হান্নান প্রধান (গোলাপফুল প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ২২৯।

সুলতানাবাদ ইউপি :
স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক কোকন (ঘোড়া প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪৩৬৮ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবা ইসলাম সিফাত (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৪০৬৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজিম উদ্দিন সোহেল (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ২৩৩৯, মো. জসিম উদ্দিন জমাদার (চশমা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৩২।

গজরা ইউপি :
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. শহীদ উল্লাহ প্রধান (নৌকা প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৫৬১২ পেয়ে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মফিজুল ইসলাম (আনারস প্রতীক) প্রাপ্ত ভোট ৭৯৪।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’