শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১, ৪:২০ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সূচীপাড়া উওর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: মোস্তফা কামাল মজুমদারের বিরুদ্ধে উৎসৃঙ্খল দূর্স্কৃতকারী কতৃক বিভ্রান্তমূলক তথ্য ও অপ:প্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

৩১ অক্টোবর রবিবার বিকাল ৫ টায় স্থানীয় শোরশাক বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা ও সাংবাদিকদের সাথে প্রেসব্রিফিংকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। মোস্তফা কামাল মজুমদার জানান, একশ্রেনীর স্বার্থান্বেষী চক্র সূচীপাড়া উওর ইউনিয়নের বর্ধিত সভার শেষপ্রান্তে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য চলাকালে উদ্ভট আওয়াজ করেন।

এ ঘটনার রেশ ধরে স্থানীয়রা জানতে পারেন আমার আত্বীয় সম্পকীর্য় নিজাম ্উদ্দিন নামের একজন সহ আরো একজন এ উদ্ভট আওয়াজ ও উৎশৃঙ্খল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এ সময় শোরশাক বাজার শত শত লোক নিজাম উদ্দিনের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালায় বিষয়টি আমার ছোট ভাই হুমায়ন ও স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ অবগত হয়ে নিজাম উদ্দিনকে আমার কাছে নিয়ে আসে। আমি নিজাম উদ্দিনকে ঐ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে ঐ উদ্ভট কর্মকান্ডের কথা স্বীকার করে, পরে তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়।

পরবর্তীতে ফেসবুক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়, এ ঘটনাকে বিকৃতভাবে প্রচার করছে।

Model Hospital

এছাড়া ফেসবুকে দুস্কৃকৃতকারীরা শোরশাক বাজার নজরুল ইসলামের চায়ের দোকানে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ছবি ও আমাদের অভিবাবক সংসদ সদস্য মহোদয়ের ছবি মাটিতে রেখে ছবি তুলে ফেসবুকে প্রচার ও নজরুলের চায়ের দোকানের থালা বাসন প্লেট মাটিতে ফেলে ও টেবিল চেয়ার উল্টো করে রেখে ছবি তুলে প্রচার করছে আমার লোকজন তার চায়ের দোকানে হামলা করে ভাংচুর ও বঙ্গবন্ধু ও সংসদ সদস্য মহোদয়ের ছবি অপমানিত করেছে।

তিনি আরো বলেন, আপনারাই বলুন কোন চায়ের দোকানে বঙ্গবন্ধুর ও সংসদ সদস্য মহোদয়ের এমন রাষ্টীয় ব্যবহার্য ছবি থাকে কিনা। দীর্ঘদিন যাবৎ এ উৎশৃঙ্খল হীন দুস্কৃতকারীরা আমার পেছনে এ অপ্রপ্রচার ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। এমন কাল্পনিক মিথ্যা বানোয়াট বির্ভান্তকর ছবি ও তথ্য বিষয়ে জনগনকে বির্ভান্তমূলক অপ্রপ্রচার থেকে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।

প্রতিবাদ সভা থেকে তিনি, এ অপ্রপ্রচারকারী দুস্কৃতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তির দাবী জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’