বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ২:৩৩ পিএম
মতলব উত্তরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত
মতলব উত্তর প্রতিনিধি : ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি, কল্যাণমুখী রাজনীতি এবং ইমসাফপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নীতি পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মতলব উত্তর উপজেলা সম্মেলন ২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) উপজেলার ছেংগারচর বাজারের মুহিন প্লাজার ৩য় তলায় এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি শেখ মুহা. জয়নাল আবদীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মুহা. জয়নাল আবদীন বক্তব্যে  বলেন,পাঠ্যপুস্তকে বিবর্তনবাদ স্থাপন করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
এছাড়াও ভারতে মুসলিম শাসনকে বিতর্কিতভাবে উপস্থাপন করে ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকার এ অঞ্চলে মুসলিমদেরকে বহিরাগত প্রমাণ করতে চায়। তিনি বলেন, এমন বিতর্কিত ও বিভ্রান্ত মুলক পাঠ্যক্রম ছাত্রসমাজ মেনে নেবে না।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ ফরহাদ হেসাইন এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বিএম মাহফুজ হাসানের সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম হোসাইন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির মতলব উত্তর উপজেলা শাখার ছদর আলহাজ্ব আহমদ উল্লাহ মিয়াজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সভাপতি ক্বারী মুহা. আব্দুল রাজ্জাক ইসলামি ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পশ্চিম দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক সম্পাদক আনিসুল ইসলাম মামুন।
আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ছেংগারচর পৌর শাখার সভাপতি মাওলানা গাজী এমদাদুল হক মানিক, যুব আন্দোলন এর সাধারন সম্পাদক মাঈনউদ্দীন সুজন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আফজাল খাঁন, মাওলানা আ. বাতেন ফরাজি, মো. আনিসুল ইসলাম মামুন, মো. তারেক হোসাইন, মাওলানা আশ্রাফ আলী প্রমুখ।
সম্মেলনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের মতলব উত্তর উপজেলা শাখার পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সভাপতি মুহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বিএম মাহফুজুর রহমানকে ১বছর মেয়াদে নতুন কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়।

৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর চিকিৎসায় চিকিৎসক-নার্স ও SACMOদের সমন্বিত উদ্যোগ

শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৬ এম
শাহরাস্তিতে প্রথম জরুরি বিভাগেই সাপে-কাটা রোগীকে অ্যান্টিভেনম
শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথমবারের মতো জরুরি বিভাগেই সাপের কামড়ে আক্রান্ত এক রোগীকে অ্যান্টি-স্নেক ভেনম (ASV) দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীর শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসক, নার্স ও SACMOদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জরুরি বিভাগেই শুরু হয় চিকিৎসা। পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগী আসমা আক্তার (২৩) উপজেলার মনিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আল-আমীন।
বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন আসমা। স্বজনরা দ্রুত তাঁকে রাত ৯টার দিকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। ওই সময় তিনি প্রায় আট সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরুন নবী জুয়েল তাঁকে পরীক্ষা করেন।
এ সময় কামড়ের স্থান ফোলা ও কালচে হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রোগীর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যায়। তাঁর চোখের পাতা ঝুলে পড়া (Ptosis) এবং ‘Broken Neck Sign’-এর মতো লক্ষণও প্রকাশ পায়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসক দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টি-স্নেক ভেনম দেওয়া শুরু হয়। চিকিৎসা পর্যায়ে রোগীকে মোট ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়।
চিকিৎসা চলাকালে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসক, নার্স ও SACMOরা। চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে পরবর্তী ঝুঁকি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (UHFPO) ডা. মো. আবু নাছের শাকিল বলেন, “জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে-কাটা কোনো রোগীকে জরুরি বিভাগেই অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। বিশেষ করে রোগীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বিষয়টি ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্রুত হাসপাতালে আনা এবং বিষক্রিয়ার লক্ষণ শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হওয়ায় জরুরি ব্যবস্থাপনা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা জানান, সাপের কামড়ের পর সময় নষ্ট না করে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক বা অন্য কোনো প্রচলিত পদ্ধতিতে সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, সময়ের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার পরিধিও বাড়ছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  বেগম খালেদা জিয়ার সময় হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে সম্প্রতি  হাসপাতালটি ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় এবং পরে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ জন স্থানীয় সাংসদ লায়ন ইন্জিঃ মমিনুল হক এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনিরা খাতুনকে  সবাই ধন্যবাদ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জরুরি বিভাগে সাপে-কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের এই ঘটনা স্থানীয় মানুষের জন্য জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও বার্তা ।
একজন অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর সংকটময় সময়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ার ঘটনাটি সেই সক্ষমতারই একটি মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।