শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

পূর্ব শাহতলীতে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৩, ৪:১২ পিএম
পূর্ব শাহতলীতে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পূর্ব শাহতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও হিফজুল কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে বিশাল ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল ২৭জানুয়ারী (শুক্রবার) মসজিদ সংলগ্ন মাঠে পূর্ব শাহতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

বিশেষ অতিথি শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বক্তব্যে বলেন, এ মাহফিলটি সফল করার জন্য সাইফুল ভাইসহ অত্র এলাকার যুব সমাজকে নিয়ে একটি টীমওয়ার্ক কাজ করছে। আপনারা ওয়াজ শুনবেন, ওয়াজের মাধ্যমে মানুষের অন্তরের ইসলামের বিকাশ ঘটে। আগত মেহমানদের আপনারা সম্মান করবেন। এ মাহফিলের ব্যাপারে আপনারা এলাকাবাসী সহযোগিতা করেছেন এবং সবসময়ই সহযোগিতা করে আসছেন। এ মাহফিলটি সফলভাবে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ এলাকায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শাহতলী কামিল মাদরাসাও আছে। আপনারা আপনাদের সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করাবেন। কোন শিক্ষার্থীর কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবেন। আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। কেউ যাতে অর্থের অভাবে পড়াশুনা বন্ধ না করে। আমরা আজকের মাহফিলে কুরআন, হাদীস সম্পর্কে জানব। আমাদের সে সম্পর্কে আমল করতে হবে। মাহফিল এর মাধ্যমে মানুষ সংশোধন হয়। আমাদের সংশোধন হতে হবে।

Model Hospital

মাহফিলে প্রধান মেহমান এর বক্তব্য রাখেন, আন্তজার্তিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাচ্ছিরে কুরআন, ইসলামী গবেষক, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেতার এর লেখক ও ভাষ্যকার হযরত মাওলানা মুহাদ্দিস রফিকুল্লাহ আফসারী, প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন মাদরাসাতুল আস’আদ আল ইসলামীয়া ঢাকা এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হযরত মাওলানা মুফতী সাঈদ আহমাদ (কলরব)।

মেহেরুল্লাহ পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো: মিজানুর রহমান এর পরিচালনায় বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ওয়্যারলেছ বাজার জামে মসজিদ এর খতিব হযরত মাওলানা দ্বীন ইসলাম চাঁদপুরী, মাদরাসাতুল আস’আদ আল ইসলামীয়া ঢাকা’র পরিচালক হযরত মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, হাজীগঞ্জ মালীগাঁও বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এর খতিব হযরত মাওলানা মো: মামুন হোসাইন চাঁদপুরী।

মাহফিলে সভাপতি’র বক্তব্য রাখেন শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন।

মাহফিলের শুরুতে বিশেষ অতিথি শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী এবং মাহফিলের সভাপতি শাহতলী কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে ক্রেস্ট প্রদান করেন মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির আহ্বায়ক পূর্ব শাহতলী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি মো: সাইফুল কবির চৌধুরী ও মাহফিল কমিটির ব্যবস্থাপক মো: জহির হোসেন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা।

এসময় মাহফিলে অংশগ্রহন করেন, মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির সভাপতি মো: সাইফুল কবির চৌধুরী , মাহফিল কমিটির ব্যবস্থাপক মো: জহির হোসেন চৌধুরী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক মেম্বার মো: সফিক কারী, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মো: দিদার হোসেন মিজি ,৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো: আবুল কাশেম কারী, ৪নং ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশের সহ-সভাপতি মো: নুরুজ্জামান মুন্সি, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: সোহেল কারী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মো: মোস্তফা মিজি, শাহতলী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো: দেলোয়ার খান দেলু, ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর খান, শাহতলী বাজার ব্যবসায়ী মো: সোহাগ গাজী, হযরত আলী,মা: আলমগীর গাজী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াসিন গাজী, স্থানীয় রহিম গাজী, শরীফ খান, সুমন গাজী, জামাল গাজী, মো: তাজুল ইসলাম শুক্কুর, মো: আরশাদ গাজীসহ সহস্রাধিক মুসল্লিগন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’