শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়: অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৪:০৬ পিএম
খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়: অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল

মনিরুল ইসলাম মনির: জাতীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল মতলব উত্তর উপজেলার ১২টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেছে।

৪ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকালে নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপজেলার ১২টি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঝে এসব ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেন এমপি রুহুল।

এমপি রুহুল বলেন, নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে ক্রীড়ার কোন বিকল্প নেই। এছাড়া এ ক্রীড়ার মাধ্যমে আমাদের দেশের সন্তানরা আমাদের দেশকে সারা বিশ্বে পরিচিতি করে তুলছে। এটাই আমাদের কাছে গর্ব।

ক্রিকেট, হকি, ফুটবলে আমাদের দেশের ক্রীড়া সন্তানরা ভাল করছে। বর্তমান সরকার অন্যান্য উন্নয়নের পাশাপশি ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফসল বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঝে আজকে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ।

Model Hospital

সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল বলেন, খেলাধুলা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়, যুব-সমাজ খেলাধুলার মাধ্যমে মাদক থেকে বিরত থাকতে পারে, তাই আমরা চেষ্টা করছি যুব সমাজের পাশে থাকতে। শুধু ক্রীড়া সামগ্রী নয়। যুব সমাজকে ভাল রাখতে সব ক্ষেত্রেই আমরা তাদের পাশে ছিলাম আগামীতেও থাকব।

এসময় এমপি রুহুল আরো বলেন, ক্রীড়াঙ্গণকে উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করছে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার। তারই অংশ হিসেবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও ক্লাব সমূহের মাঝে এ ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

ক্রীড়াঙ্গণে অভূতপূর্ব সাফল্যের কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে অনেক বেশি পরিচিতি এনে দিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গণে দেশে ও দেশের বাহিরে বাংলাদেশ অনেক পরিচিতি লাভ করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় শেখ রাসেল স্টেডিয়াম তৈরীর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান সাংসদ রুহুল।

নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা যাকারিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য দেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ জহির, ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য সরকার মো. আলাউদ্দিন, নাউরী আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন, চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দলিল উদ্দিন, উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম ফারুক, সুলতানাবাদ ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন, মতলব পৌর যুবলীগের সভাপতি সোহাগ সরকার।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’