শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জিলানী হাইস্কুল ও শাহতলী জোবাইদা উবি’র শিক্ষার্থীদের টীকা গ্রহন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮:৪৩ পিএম
জিলানী হাইস্কুল ও শাহতলী জোবাইদা উবি’র শিক্ষার্থীদের টীকা গ্রহন সম্পন্ন

চাঁদপুরস্থ আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে শাহতলী জিলানী চিশতী উবি ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উবি'র শিক্ষার্থীদের করোনা ভাইরাসের ফাইজারের টীকা গ্রহন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন, বিদ্যালয়দ্বয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

স্টাফ রির্পোটার   শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ  বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা করোনা ভাইরাসের ফাইজারের টীকা গ্রহন করেছেন।

গত ২ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) চাঁদপুর শহরের আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে শাহতলী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয় ও উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ  বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টীকা নেওয়ার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিদ্যালয়দ্বয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: সাহাদাৎ হোসেন, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষিকা নাজমা আক্তার, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো: রফিকুল ইসলাম তালুকদার, সিনিয়র শিক্ষিকা ফাহিমা জাহান, সহকারি শিক্ষিকা রাবেয়া বেগম, উত্তর শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো: ইদ্রিস আলী, সহকারি শিক্ষক সোহরাব হোসেন, সহকারি শিক্ষিকা মোসাম্মৎ রুবিনা আক্তার, সহকারি শিক্ষিকা মেহেরুন নেছা, সহকারি শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র দে, সহকারি শিক্ষক নেছার আহমেদ খান, সহকারি লাইব্রেরীয়ান মাওলানা আব্দুল মান্নান, জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মাওলানা শহিদুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষক মো: লুৎফুর রহমান, সহকারি শিক্ষক বিপুল চন্দ্র নন্দী, সহকারি শিক্ষক মো: সাইফুল ইসলাম, সহকারি মো: ফজলুল করিম খানসহ অন্যান্যরা।

এসময় জিলানী জিলানী চিশতী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট ৫০জন ও উত্তর সাহাতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪২জন  শিক্ষার্থী ফাইজারের টীকা গ্রহন করেন। অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা এ টীকা গ্রহন করেন।

Model Hospital

এসময় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী জানান, চাঁদপুর আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা এ টীকা কার্যক্রম সম্পন্ন করায় শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি, আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজ গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ডা: জে আর ওয়াদুদ টিপু,  চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো: গিয়াসউদ্দিন পাটওয়ারী,  চাঁদপুর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’