শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ মার্চ, ২০২৩, ২:১২ পিএম
কচুয়ায় সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধি : কচুয়ায় সোনালী ব্যাংকের ক্যাশিয়ার গৌতমের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কচুয়া উপজেলার কোমরকাশা গ্রামের সৌদি প্রবাসীর পিতা হাসানাত ২২ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংক কচুয়া শাখায় তার স য় হিসাব নং-১৫০৮১৩৪১৩৫৬০৯ এ ১ লক্ষ টাকা মেশিন কাউন্টি করিয়া ব্যাংকের সীলযুক্ত রশিদের মাধ্যমে টাকা প্রদান করেন।

৫ মার্চ রবিবার দুপুরে তার একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংকে টাকা নেই বলে ব্যাংক কতৃপক্ষ জানান। এসময় সন্দেহ হলে হাসানাত ক্যাশিয়ার গৌতমকে ২২ ফেব্রুয়ারি তার একাউন্টে ১ লক্ষ টাকা জমা দেয়ার বিষয় বললে সে কোন সুদত্তর দিতে পারেনি।

বিষয়টি ব্যাংকের ম্যানেজার কাজী আবু বকর ছিদ্দিকের দৃষ্টিতে আনলে ম্যানেজার তার একাউন্টে টাকা জমা হয়েছে কিনা দেখবেন বলে কালক্ষেপন করেন। পরক্ষনে ম্যানেজার গ্রাহক আবু হাসানাতকে ভয়ভীতি প্রর্দশন করে হুমকি ধমকি প্রদান করে ব্যাংক থেকে বের করে দেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবু হাসানাত ক্যাশিয়ার গৌতমকে বিবাদী করে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

Model Hospital

অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, স্থানীয় দু’জন স্বাক্ষীর উপস্থিতে টাকা জমা দেয়ার সময় ক্যাশিয়ার গৌতম স্কল নাম্বার ও স্বাক্ষর না দিয়ে গ্রাহক আবু হাসানাতের কাছ থেকে টাকা গ্রহন করেন। জমাকৃত ১লক্ষ টাকার ১০০টি নোটের ১টির মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছবির উপরে কালি দিয়ে ঢাকা থাকায় ক্যাশিয়ার হাসানাতকে ১হাজার টাকার নোটটি পালটিয়ে দিতে বললে গ্রাহক হাসানাত বলে আমার কাছে আর কোন টাকা নেই। ওই সময় ব্যাংকে সেবা নিতে আসা অন্য গ্রাহক পারভেজ নিকট থেকে ১হাজার টাকা নোট বদলিয়ে ৫০০ টাকার দু’টি নোট ক্যাশিয়ার গৌতমের কাছে দেয়।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক কচুয়া শাখার ম্যানেজার কাজী আবু বকর ছিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান,গ্রাহক হাসানাতের কাছে রক্ষিত রশিদটিতে শুধুমাত্র সোনালী ব্যাংকের ‘নগদ গ্রহন’ সীলযুক্ত রশিদ রয়েছে। তবে ক্যাশিয়ার স্বাক্ষর ও স্কল নাম্বার নেই।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো.ইব্রাহিম খলিল জানান, সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক আবুল হাসানাতের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’