শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মোহনপুর ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থীর মিছিলে বিদ্রোহী প্রার্থীর গুলি, আহত ৫

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩, ৪:২৩ পিএম
মোহনপুর ইউপি নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থীর মিছিলে বিদ্রোহী প্রার্থীর গুলি, আহত ৫
মতলব উত্তর প্রতিনিধি : মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুল হাই প্রধান তার কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় মোহনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাই প্রধান বলেন, আমি মো. আব্দুল হাই প্রধান আসন্ন মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ নির্বাচনে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আমি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অটোরিকসা প্রতীকের কাজী মিজানুর রহমান কর্মী সমর্থকরা নৌকার প্রচারণায় বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং পুলিশি হয়রানি করছে।
আজ মঙ্গলবার প্রচারণার শেষ দিনে মিছিল নিয়ে শান্তি শৃঙ্খলভাবে মোহনপুর বাজার থেকে মুদাফর বাজারে যাওয়ার পথে বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মিজানুর রহমানের ভাই মতিন কাজী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বহিরাগতদের সাথে  নিয়ে আমার মিছিলে আক্রমন করে ১জনকে গুলিবিদ্ধ সহ ৫ জনকে মারাত্মকভাবে আহত করে। শুধু তাই নয় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকাকে অশান্তির রাজ্যে পরিনত করছে। আমার প্রচারনা করার সময় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছোবহান সরকার সুভার গাড়ি ভাংচুর করে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা আমি একাধীকবার পুলিশি সহায়তা চেয়েও পাইনি। উল্টো পুলিশ আমার কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে লাঠিপেটা করে আহত করে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অনীতিবিলম্বে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা মতলব উত্তর ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, এসআই হানিফ সহ আরো কয়েকজনকে শাস্তিমূলক বদলী ও বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী মিজানুর রহমানের বাড়ী তল্লাশী করে বহিরাগত ক্যাডারদের আটক ও মোহনপুর পর্যটনকেন্দ্র তল্লাশী করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর মিথ্যা মামলায় যেন কাউকে হয়রানি না করা হয়। সে ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মতলব উত্তর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস বলেন, স্বাধীনতার প্রতিক, উন্নয়নের প্রতিক নৌকা।  এই নৌকার মাঝি বা সমর্থকদের উপর বিদ্রোহী প্রার্থীর হামলা তা মেনে নেওয়া যায়না। তিনি অনীতিবিলম্বে বিদ্রোহী প্রার্থীর বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়া বহিরাগত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুমায়ুন হাওলাদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সদস্য সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান (এসি মিজান), সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার, শাহজাহান প্রধান, আওয়ামী লীগে উপ কমিটির সদস্য আহসান উল্ল্যাহ হাসান, উপজেলা সভাপতি দেওয়ান মো. জহির, সাধারন সম্পাদক কাজী শরীফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম ডাবলু, প্রয়াত বাবুল চৌধুরীর ছেলে মুহিবুল হক চৌধুরী সুমিত, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শরিফ প্রধান’সহ মোহনপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও তার ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীর এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’