শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্দেশ্যে জরিমানা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করা : ডিসি চাঁদপুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০২৩, ৪:১৮ পিএম
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্দেশ্যে জরিমানা নয়, সচেতনতা বৃদ্ধি করা : ডিসি চাঁদপুর

গাজী মো:ইমাম হাসান : ‘নিরাপদ জ্বালানি, ভোক্তাবান্ধব পৃথিবী”এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চাঁদপুরে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২৩ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।

১৫ মার্চ বুধবার বিকাল ৩ টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসের আলোচনায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান। এসময় তিনি বলেন মোবাইল কোর্ট পরিচলনার উদ্দেশ্যে জরিমানা আদায় করা নয়,ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।আমারা নিয়মিত নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও ভোক্তাদের অধিকার অধিদপ্তর মিলে আইনশৃংখলা বাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে থাকি।আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান কেন্দ্র করে বাজার মনিটরিং বাড়ানো হবে।যাকে কেউ অতি মুনাফা অর্জনের সুযোগ না পায়।

ডিসি আরোও বলেন আমরা ভোক্তারা যদি একটু সচেতন হই,তাহলে বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট অতি মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে না।ব্যবসায় বেশি পরিমানে মুনাফা অর্জন করা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত না।ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রান্তিক পর্যায়ে অনেক বেশি মুনাফা অর্জনের জন্য পন্য দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে রাখে।চাহিদার বিপরীতে মজুদ করার মানসিকতা বা বেশি করে ক্রয় করার মানসিকতা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে।তাহলেই বাজার ব্যবস্থাপনা একটা স্থিতিশীলতার মধ্যে থাকবে।আমরা যদি সচেতন হই তাহলেই আমরা নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবো।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইমতিয়াজ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ,চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহম্মেদ,সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল,চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার সম্পাদক সোহেল রুশদী,জেলা ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ মোশারফ হোসেন,বাবুরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দেলোয়ার খান,ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রমুখ।

Model Hospital

এ সময় চাঁদপুর জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা:এসএম শহীদ উল্লাহ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী,সাবেক সেক্রেটারী জিএম শাহীনসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা,চাঁদপুর চেম্বার অফ কমার্স, হোটেল ব্যবসায়ী, বিভিন্ন হাট বাজারের পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সুধী সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ নুর হোসেন ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত,বিগত দিনের বাজার মনিটরিং ও বিভিন্ন অভিযানের একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’