শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদগঞ্জে প্রার্থীর অভিযোগ; এক ইউনিয়নের ঘটনায় অন্য এলাকার লোকজনকে জড়ানো হচ্ছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:৫৮ পিএম
ফরিদগঞ্জে প্রার্থীর অভিযোগ; এক ইউনিয়নের ঘটনায় অন্য এলাকার লোকজনকে জড়ানো হচ্ছে

এস এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচার শুরুর দিনে দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মধ্যকার হামলা ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অপর একটি একটি ইউনিয়নের দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নিকটাত্মীয় ও দলীয় লোকজনকে জড়ানোর অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক চেয়ারম্যান প্রার্থী।

২২ ডিসেম্বর বুধবার বিকালে উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলনে এই দাবী করেন।

স্থানীয় নির্বাচনী অফিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন গত সোমবার রাতে চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ফিরোজপুর বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় আহত আহত একজনের ভাই জনৈক শামীম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু ঘটনাস্থল ও ইউনিয়ন ভিন্ন হলেও ওই মামলায় আমার নির্বাচনী এলাকা গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ১০জন লোককে আসামী করা হয়েছে। যারা আমার নিজের সহোদরসহ নিকটাত্মীয় ৫জন এবং অপর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এমরান হোসেনের ৫জন। আমার নিকটাত্মীয়দের একজন ছাড়া অন্যরা ঢাকায় ব্যবসা করে। ফলে আমাকে নির্বাচন থেকে দুরে সরাতে এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করতেই এই আয়োজন বলে আমার মনে হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মামলাটি গ্রহণের পুর্বে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি কোন তদন্ত ছাড়াই প্রভাবিত হয়ে এই কাজ করলেন তা বোধগম্য নয়। আমি ও আমার পরিবার আজন্ম আওয়ামীলীগ করেছি। আমার বাবা, চাচা, দাদা, নানাসহ পরিবারের ১৬জন সদস্য মুক্তিযোদ্ধা। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং পরবর্তীতে দল ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের স্বাক্ষর রেখেছেন। আমি তাই মানুষের জন্য কাজ করতে নির্বাচনে নেমেছি।

Model Hospital

কিন্তু যা শুরু হয়েছে ,আমার আশংকা নির্বাচন পর্যন্ত এধরনের আরো অনেক ঘটনাই ঘটবে। তাই আমি স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনসহ পুলিশের উধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। একই সাথে আগামী ৫ জানুয়ারী সুষ্ঠু অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেয়ার দাবী জানান।

এসময় কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমিটির নির্বাহী কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন সোহাগ পাটওয়ারী, এমদাদ পাটওয়ারী, আলমগীর পাটওয়ারী, হানিফ গাজি, মনির পাটওয়ারী, সাইফুল খাঁন, সফিকুর রহমান পাটওয়ারী, নান্নু খান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়া, দেলোয়ার হোসেন খান, ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল পাটওয়ারী, আশরাফ পাটওয়ারী, নুরনবী পাটওয়ারী, মুসা পাটওয়ারী, শাওন পাটওয়ারী, মহিবুল্লাহ, আলাউদ্দিন পাটওয়ারী, সাইফুল পাটওয়ারী, যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন, সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মুরাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: শাহজাহান এর সমর্থকদের মধ্যকার হামলাও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২৫জন আহত হয়। রাতেই মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুইজনকে আটক করে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’