শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৬:২৯ পিএম
চাঁদপুরে সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছেন অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা
সংরক্ষিত মহিলা আসনে (চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন চাঁদপুরের কৃতি সন্তান, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে নির্বাচিত প্রথম নারী সহ সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা।
মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র দাখিলের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিগত  আন্দোলনগুলোতে বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত আইনজীবীদের সংগঠিত  করে প্রতিরোধ-প্রতিবাদ চালিয়ে গেছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় এডভোকেট ইউসুফ হেসেন হুমায়ুনের সঙ্গে বিভিন্ন মামলায় অংশ গ্রহণ করেছি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই মনোনয়ন দিবেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনীত করলে আমি আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবো। সব সময় আদালতে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিনামূল্য আইনসহায়তা প্রদান করছি, আগামীতেও করবো।
তিনি আরো বলেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে অত্যন্ত সততার সাথে উন্নয়নের স্বপ্ন সারথী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে ২০৪১ মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নে কথা নয় কাজ  দিয়ে প্রমাণ করবো।
অ্যাডভোকেট জেসমিন সুলতানা ১৯৯৪ সনে কক্সবাজার  জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৮ সালে যুগ্ম সম্পাদক হন। ২০০০ সালে ঢাকায় চলে আসেন। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সুপ্রীম কোর্ট শাখার সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৭ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য। ২০২৩ সালে মহিলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক নির্বাচিত হন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনে এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’