শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

থানায় অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার

শাহরাস্তিতে কথিত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগির অবস্থা আশংকাজনক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯:১৯ পিএম
শাহরাস্তিতে কথিত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় রোগির অবস্থা আশংকাজনক
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে কথিত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে অসহায় পরিবারের ফাতেমা বেগম।
ঘটনাটি উপজেলার টামটা দক্ষিন ইউনিয়নের বলশীদ দৈলবাড়িতে ঘটে।
জানা যায়, দৈলবাড়ি দীঘিরপাড়ের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম রক্ত শুন্যতা রোগ নিয়ে কথিত ডাক্তার মোতাহের হোসেন সুমনের কাছে যায়। তখন তিনি রোগির কিছু শারিরীক পরীক্ষা দেন। যা পরবর্তীতে সীলগালা করা মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে তিনি ঔষধ ও ২০ ইনজেকশন প্রদান করেন। ইনজেকশনের প্বার্শ প্রতিক্রিয়ায় রোগী এখন মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন।
এবিষয় ফাতেমার স্বামী সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ডাঃ এসএম মোতাহের হোসেনকে বিবাদী করে শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পর কথিত ডাক্তার স্থানিয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে রোগীর এলাকায় একটি সালিশ দরবারের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
অভিযোগের বাদী সাইফুল ইসলাম জানান, আমি গরীব ও অসহায় একজন মানুষ। ডাক্তার মোতাহেরের কিছু দালাল রয়েছে আমাদের বলশীদ এলাকায়। যারা অসহায় পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে মোতাহের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। আমি যখন যেটা পাই সেই কাজটাই করি। ঘটনার দিন আমি রাজ মিস্ত্রীর সাথে জুগালীর কাজে গিয়েছিলাম। আমি বাসায় ফিরলে আমার স্ত্রী ফাতেমা আমাকে বিষয়টি জানায়।
পরবর্তিতে ওই ডাক্তারের চিকিৎসা চলমান রাখি। একটা সময় আমার স্ত্রী আরও অসুস্থ হতে থাকে। তখন আবার ডাক্তার মোতাহেরের কাছে গেলে তিনি পুরাতন চিকিৎসা পত্র ছিঁড়ে আবারও নতুন চিকিৎসা পত্র ও নতুন ঔষধ লিখে দেন। আমার স্ত্রীর সকল শারিরীক পরীক্ষা কালিবাড়ির মা ও শিশু হাসপাতালে করান। প্রায় ৪০ হাজার টাকার পরীক্ষা দেন তিনি। একটা সময় আমার স্ত্রীর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। তখন আমি অন্য ডাক্তার শরণাপন্ন  হই। তখন সেখানে গেলে দেখা যায়, মোতাহের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারনে আজ আমার স্ত্রীর এই অবস্থা। দীর্ঘ মেয়াদী ও ব্যাপক ব্যয় বহুল চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তুলতে হবে বলে জানান তিনি।
ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আবদুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, সাইফুল অত্যন্ত গরীব ও অসহায় একজন মানুষ। সে খুবই সহজ সরল প্রকৃতির লোক। ডাক্তার মোতাহের হোসেন প্রকৃত পক্ষে কোন চিকিৎসক নন। গরীব ও অসহায় মানুষকে চিকিৎসার নামে তাদের রক্ত চুষে খায়। আজ সাইফুলের স্ত্রী মৃত্যু শয্যায়। ছোট ছোট দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে তাদের। পুরাতন একটি দোচালা ঘরে তাদের বসবাস। এমন অসহায় মানুষটি ক্ষতির জন্য মোতাহের ডাক্তারের সঠিক বিচার হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
ডাক্তার মোতাহের বলেন, আমি সঠিক চিকিৎসা দিয়েছি। রোগীনি অন্য চিকিৎসকের সহযোগিতা নিয়ে তার শারিরীক সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। এটার জন্য আমি কেন দায়িত্ব নিবো। এই ইনজেকশন আপনি দিতে চিকিৎসা পত্রে লিখতে পারেন কিনা?
এমন প্রশ্ন করলে তিনি নিরবতা পালন করেন।
এলাকাবাসী বলেন, এই ডাক্তারের দ্বারা একই বাড়ির আরেক নারী রোগি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ঘটনায় ডাক্তার মোতাহের ১লক্ষ টাকা জরিমান প্রদান করেন। এই ডাক্তারের চিকিৎসা প্রদানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রসাশনের নজরদারিতা একান্ত প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’