শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে গত ১০ দিন যাবত

মতলব দক্ষিণে বসতঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে বড় ভাই ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪, ৩:২১ এম
মতলব দক্ষিণে বসতঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে বড় ভাই ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে বসতঘরের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে আপন বড় ভাই ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছোট ভাইয়েরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের ঘোড়াধারি গ্রামের মুন্সি বাড়িতে।

জানা যায়, উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের মুন্সি বাড়ির মৃত আলী আজ্জম মুন্সির ৭ ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিশি বৈঠকও হয়। গত ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০ টায় মৃত আলী আজ্জম মুন্সির দ্বিতীয় ছেলে জসিম মুন্সি বিরোধপূর্ণ জায়গার বড়ই গাছে সাটানো নেট জাল খুলে আনতে গেলে আলমগীর হোসেনের পরিবার বাঁধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মাঝে হাতাহাতির এক পর্যায়ে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হয়।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন চাঁদপুর আদালতে ছোট ভাই জসিম মুন্সি, আরিফ মুন্সি, শাখাওয়াত মুন্সি, জসিম মুন্সির স্ত্রী পিয়ারা বেগম ও মেয়ে জাকিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরই জের ধরে আলমগীর হোসেনের ছোট ভাই জসিম মুন্সি, সাজেদ হোসেন, শাওখায়াত হোসেন, আরিফ মুন্সি, জিসান মুন্সি একত্রিত হয়ে বড় ভাই মো. আলমগীর মুন্সির বসতঘরের সামনে গত দেড় সপ্তাহ ধরে টিনের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

ভুক্তভোগি আলমগীর হোসেন জানান, আপন ছোট ভাইদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে তার। এরই জের ধরে গত ১৭ মার্চ তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জসিম মুন্সি ও তার স্ত্রী পিয়ারা বেগমসহ অন্য ভাইয়েরা আলমগীর হোসেন, তার স্ত্রী পারভিন বেগম ও ছেলে জিহাদ মুন্সিকে বেধরক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে আলমগীর হোসেন চাঁদপুর আদালতে জসিম মুন্সি, আরিফ মুন্সি, শাখাওয়াত মুন্সি ও জসিম মুন্সির স্ত্রী-মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার জের ধরে আলমগীর হোসেনের বসতঘরের সামনে টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে তার পরিবারকে।

Model Hospital

অভিযুক্ত জসিম মুন্সি বলেন, আমি বড়ই গাছের নেটজাল নামাতে গেলে পারভীন এবং জিহাদ আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে আমার বসত ঘরে ডুকে আমার মেয়ে ও স্ত্রীকে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি আরও জানান আমি দুই ফুট জায়গা রেখে আমার জায়গায় বেড়া দিয়েছি।

এ ব্যাপারে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতিমা সুলতানা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমি ব্যবস্থা নিবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’