শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়া মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উবি’র পুনরায় সভাপতি ফয়সাল আজাদ রুবেল

ইসমাইল হোসেন বিপ্লব, কচুয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম
কচুয়া মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উবি’র পুনরায় সভাপতি ফয়সাল আজাদ রুবেল

কচুয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে তৃতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ অস্ট্রোলিয়া সিডনি শাখার সাধারন সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক শিক্ষানুরাগী মরহুম নুরুল আজাদের জ্যেষ্ঠ সন্তান মো.ফয়সাল আজাদ রুবেল ।

২৮ মার্চ মঙ্গলবারের বিকেলে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় সদস্যবৃন্দ সর্ব সম্মতিক্রমে তাঁকে তৃতীয় বারের মত বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে নির্বাচিত করেন।

জানাগেছে, উপজেলার মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ সোহেল রানার তত্ত্বাবধানে নির্বাচনে অভিভাবকগন স্বতঃফুর্ত ভাবে অংশগ্রহন করেন। নির্বাচনে ৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।

Model Hospital

অভিভাবক সদস্য মো: জাহাঙ্গীর আলম, অমর সরকার, মো: মনসুর আহমেদ, মো: মিজানুর রহমান, মহিলা অভিভাবক সদস্য রাশেদা বেগম, শিক্ষক প্রতিনিধি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, আজম খান, মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি শারমিন আক্তার বেগম নির্বাচিত হন।

ম্যানেজিং কমিটির সভায় অভিভাবক সদস্যদের প্রস্তাবে এবং সমর্থনে সর্বসম্মতিক্রমে মো. ফয়সাল আজাদ রুবেলকে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত করেন।

এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানিজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ তাঁকে ফুলদিয়ে বরণ করেন । পরে নবনির্বাচিত সভাপতি মো. ফয়সাল আজাদ রুবেল এর সভাপতিত্বে ম্যানেজিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ফয়সাল আজাদ রুবেল মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পুনরায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় রাজনৈতিক,সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এক প্রক্রিয়া মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নব-নির্বাচিত সভাপতি সমাজ সেবক ফয়সাল আজাদ রুবেল বলেন, আমার প্রয়ত পিতা শিক্ষানুরাগী নরুল আজাদ এলাকার মানুষকে ভালোবাসতেন।

শিক্ষার আলো নিজ এলাকার প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষে বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনপুরা বাতাবাড়িয়া জাফর আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, নুরুল আজাদ কলেজসহ বহু শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।

বাবার আদর্শ ধারন করে আমিও এলাকার শিক্ষা মানন্নোয়নে কাজ করছি। শিক্ষার পরিবেশ সু-নিশ্চিত করতে শিক্ষক,শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’