শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

থানায় মামলা, আটক-২

শাহরাস্তিতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-২

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:১০ এম
শাহরাস্তিতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত-২
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ব্যক্তি আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। এবিষয়ে আহতের পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করলে একজনকে আটক করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেন পুলিশ। অপরজন কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্ররণ করেন।
ঘটনাটি ১৩ এপ্রিল শনিবার রাত ৯ টায় উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিন ইউনিয়নের বেরনাইয়া কৃষ্ণপুর গ্রামে ঘটে।
জানা যায়, ওই গ্রামের বেপারী বাড়ির আবু তাহেরের পুত্র পারভেজের সাথে একই বাড়ির হানিফ মিয়ার নাতি সবুজের সাথে পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। তারই জের ধরে ঘটনার দিন ও সময়ে মানিক ও শাওনকে চলাচলের রাস্তায় একাকি পেয়ে ওই গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে মুরাদ ও তার সঙ্গী সাথীদের হামলা করে। এতে উভয়ে গুরুতর আহত হয়। এসময় তাকে উদ্ধার করতে ওই গ্রামের তালুকদার বাড়ির ইয়াকুবের ছেলে মোঃ শাওন এগিয়ে আসলে তাকেও তারা বেদম প্রহার করে। আহত দুজনকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়।
ছবিঃ আহত ২ জন। গেঞ্জিতে মানিক ও শার্ট পড়া শাওন
অভিযোগের আলোকে জানা যায়, মামলার ১নং বিবাদী মুরাদ ঘটনার দিন ও সময়ে তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে পূর্ব থেকে চলাচলের রাস্তায় ওঁত পেতে থাকাবস্থায় মামলার ১ ও ২নং স্বাক্ষীর উপর রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ১নং বিবাদীর শক্ত কিছুর আঘাতে ১নং স্বাক্ষীর মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নীলাফুলা ও রক্তাক্ত জখম হয়। ২নং স্বাক্ষী শাওনকেও তারা প্রতিবাদ করার দায়ে রাতের অন্ধকারে বেদম প্রহার করে। এতে দুজনই গুরুতর অসুস্থ হয়।
মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি সহ বাড়ি ফিরছিলাম। মুরাদ ও তার সাথে থাকা ছেলেগুলো আমার ডাক শুনতে চায়নি। তারা আমার ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে আমার ছেলে ও শাওনকে ইচ্ছা মত মারধর করে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমি নিরুপায় হয়ে মামলা দায়ের করেছি। আইনের সহায়তা ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এলাকাবাসী বলেন, এই গ্রামে ১৭/১৮ বছর বয়সের ছেলেগুলো মুরাদের কারনে দুষ্ট প্রকৃতির হয়ে যাচ্ছে। এরা এভাবে চলতে থাকলে কিশোর গ্যাংয়ে পরিনত হওয়ার আশংকা করছেন তারা। অনতিবিলম্বে এই কিশোরদের বেপরোয়া গতির প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহন না করলে তারা এই সমাজে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে বলে তারা মনে করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’