শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে ৬ দোকানিকে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: রবিবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:১৩ এম
শাহরাস্তিতে ৬ দোকানিকে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড
শাহরাস্তিতে ৬টি দোকানিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে পৌর শহরের ঠাকুর বাজার ও কালীবাড়ি বাজারে এ আদালত পরিচালনা করা হয় ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন ঠাকুর বাজারের মুক্তা স্টোর ও রোহা স্টোর নামক দুটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই এর অনুমোদনহীন, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ বিহীন, ইঁদুরে খাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ভেজাল বিপুল পরিমাণ শিশু খাদ্য, পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন দোকানে শিশু খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রং, কৃত্রিম ফ্লেভার, নিষিদ্ধ কেমিক্যাল, হাইড্রোজ, মোম ও স্যাকারিনের দ্রবণ মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের জুস এবং জেলিসহ ভেজাল খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক ওই অভিযুক্ত দুটি দোকান মালিককে ৩০, হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত ভেজাল শিশুখাদ্য সামগ্রী সকলের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদীত্তীর্ণ ঔষধ রাখা, রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, স্যাম্পল ও লাইসেন্স ছাড়া শিশু খাদ্য বিক্রয় ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধে ঠাকুর বাজারের চারটি ফার্মেসিকে মোট ২৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ওই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত দোকানিদের এ দন্ড প্রদান  করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসির আরাফাত।
এ কাজে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট অফিসার সহ সঙ্গীয় ফোর্স ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সাম্প্রতিক কালে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রচুর পেটের পীড়ার নিয়ে শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে।
ওই সকল শিশুরা সরাসরি ভেজাল খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুডপয়জনিংয়ে) আক্রান্ত হয়।
এজন্য খাবারে ক্ষতিকারক রঙের ব্যবহার, কীটনাশক ইত্যাদির কারণে শিশুর কিডনি ও লিভারসহ যেসব জায়গায় বেশি রক্ত চলাচল করে সেসব অঙ্গ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যার পরিণাম দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের আশঙ্কা। এর বাইরে পেটের পীড়া, পেটে ঘা, আলসার, চর্মরোগসহ নানা রোগের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নিম্নমানের এসকল মুখরোচক ভেজাল শিশু খাবার খেয়ে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। তাদের শরীরে এসব উপাদান স্লো পয়জনিংয়ের মতো কাজ করছে। এসব শিশুর পেটে গেলে কিডনি ও লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ওই হিসেবে শাহরাস্তির প্রতিটি হাটবাজারে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে এ ধরনের অভিযান শেষে স্থানীয় জনগণ জানান, জনগণের জীবন ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত।
এদিকে স্থানীয় জনগণ তথা ভোক্তা পর্যায়ে এই ধরনের অভিযানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’