ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে ৬ দোকানিকে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড

শাহরাস্তিতে ৬টি দোকানিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে পৌর শহরের ঠাকুর বাজার ও কালীবাড়ি বাজারে এ আদালত পরিচালনা করা হয় ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন ঠাকুর বাজারের মুক্তা স্টোর ও রোহা স্টোর নামক দুটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই এর অনুমোদনহীন, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ বিহীন, ইঁদুরে খাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ভেজাল বিপুল পরিমাণ শিশু খাদ্য, পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন দোকানে শিশু খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রং, কৃত্রিম ফ্লেভার, নিষিদ্ধ কেমিক্যাল, হাইড্রোজ, মোম ও স্যাকারিনের দ্রবণ মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের জুস এবং জেলিসহ ভেজাল খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক ওই অভিযুক্ত দুটি দোকান মালিককে ৩০, হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত ভেজাল শিশুখাদ্য সামগ্রী সকলের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদীত্তীর্ণ ঔষধ রাখা, রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, স্যাম্পল ও লাইসেন্স ছাড়া শিশু খাদ্য বিক্রয় ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধে ঠাকুর বাজারের চারটি ফার্মেসিকে মোট ২৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ওই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত দোকানিদের এ দন্ড প্রদান  করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসির আরাফাত।
এ কাজে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট অফিসার সহ সঙ্গীয় ফোর্স ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সাম্প্রতিক কালে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রচুর পেটের পীড়ার নিয়ে শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে।
ওই সকল শিশুরা সরাসরি ভেজাল খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুডপয়জনিংয়ে) আক্রান্ত হয়।
এজন্য খাবারে ক্ষতিকারক রঙের ব্যবহার, কীটনাশক ইত্যাদির কারণে শিশুর কিডনি ও লিভারসহ যেসব জায়গায় বেশি রক্ত চলাচল করে সেসব অঙ্গ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যার পরিণাম দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের আশঙ্কা। এর বাইরে পেটের পীড়া, পেটে ঘা, আলসার, চর্মরোগসহ নানা রোগের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নিম্নমানের এসকল মুখরোচক ভেজাল শিশু খাবার খেয়ে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। তাদের শরীরে এসব উপাদান স্লো পয়জনিংয়ের মতো কাজ করছে। এসব শিশুর পেটে গেলে কিডনি ও লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ওই হিসেবে শাহরাস্তির প্রতিটি হাটবাজারে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে এ ধরনের অভিযান শেষে স্থানীয় জনগণ জানান, জনগণের জীবন ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত।
এদিকে স্থানীয় জনগণ তথা ভোক্তা পর্যায়ে এই ধরনের অভিযানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।
ট্যাগস :

শাহরাস্তিতে ৬ দোকানিকে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড

আপডেট সময় : ১২:১৩:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
শাহরাস্তিতে ৬টি দোকানিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৮৮ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং এর অংশ হিসেবে পৌর শহরের ঠাকুর বাজার ও কালীবাড়ি বাজারে এ আদালত পরিচালনা করা হয় ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওইদিন ঠাকুর বাজারের মুক্তা স্টোর ও রোহা স্টোর নামক দুটি প্রতিষ্ঠানে বিএসটিআই এর অনুমোদনহীন, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ বিহীন, ইঁদুরে খাওয়ার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ভেজাল বিপুল পরিমাণ শিশু খাদ্য, পাওয়া যায়।
একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন দোকানে শিশু খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর রং, কৃত্রিম ফ্লেভার, নিষিদ্ধ কেমিক্যাল, হাইড্রোজ, মোম ও স্যাকারিনের দ্রবণ মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের জুস এবং জেলিসহ ভেজাল খাদ্যপণ্য উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক ওই অভিযুক্ত দুটি দোকান মালিককে ৩০, হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত ভেজাল শিশুখাদ্য সামগ্রী সকলের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়াও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদীত্তীর্ণ ঔষধ রাখা, রেফ্রিজারেটরের তাপমাত্রা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা, স্যাম্পল ও লাইসেন্স ছাড়া শিশু খাদ্য বিক্রয় ইত্যাদি বিভিন্ন অপরাধে ঠাকুর বাজারের চারটি ফার্মেসিকে মোট ২৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ওই অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত দোকানিদের এ দন্ড প্রদান  করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: ইয়াসির আরাফাত।
এ কাজে সহযোগিতা করেন শাহরাস্তি মডেল থানার সংশ্লিষ্ট অফিসার সহ সঙ্গীয় ফোর্স ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, সাম্প্রতিক কালে উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রচুর পেটের পীড়ার নিয়ে শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে।
ওই সকল শিশুরা সরাসরি ভেজাল খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুডপয়জনিংয়ে) আক্রান্ত হয়।
এজন্য খাবারে ক্ষতিকারক রঙের ব্যবহার, কীটনাশক ইত্যাদির কারণে শিশুর কিডনি ও লিভারসহ যেসব জায়গায় বেশি রক্ত চলাচল করে সেসব অঙ্গ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যার পরিণাম দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের আশঙ্কা। এর বাইরে পেটের পীড়া, পেটে ঘা, আলসার, চর্মরোগসহ নানা রোগের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নিম্নমানের এসকল মুখরোচক ভেজাল শিশু খাবার খেয়ে শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে। তাদের শরীরে এসব উপাদান স্লো পয়জনিংয়ের মতো কাজ করছে। এসব শিশুর পেটে গেলে কিডনি ও লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। ওই হিসেবে শাহরাস্তির প্রতিটি হাটবাজারে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এদিকে এ ধরনের অভিযান শেষে স্থানীয় জনগণ জানান, জনগণের জীবন ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকা উচিত।
এদিকে স্থানীয় জনগণ তথা ভোক্তা পর্যায়ে এই ধরনের অভিযানের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।