শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব উত্তর ব্যুরো

মতলব উত্তরে ৫ টাকা কে কেন্দ্র করে অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১২:১২ এম
মতলব উত্তরে ৫ টাকা কে কেন্দ্র করে অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট 
মতলব উত্তর উপজেলার ৮নং এখলাসপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ০৫ টাকা ভাড়া দেওয়া কে কেন্দ্র করে রাতের আঁধারে অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দশটি অটো-রিকশা ভাঙচুর সহ অর্ধ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
২২ এপ্রিল (রবিবার) দিবাগত রাতে উপজেলার এখলাসপুর পুরনো বেরিবাধ এলাকায় হামলা করে অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় শিশু- বৃদ্ধাসহ অন্তত শতাধিক নারী পুরুষ মারাত্মক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দু’জন আশংকাজনক অবস্থায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইমরান জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনে এখলাসপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ঝর্ণা মেম্বারের ছেলে মিরাজের সাথে অটো-চালক মোহন মোল্লার সাথে ৫ টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে তা হাতাহাতি তে রূপ নেয়, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রবিবার সন্ধায় ঝর্ণা মেম্বারের ছেলে মিরাজ ও তার বন্ধুরা এলাকাবাসীর উপর হামলা করে এই ঘটনায় মোহন মোল্লা গিয়ে তাদের উপর হামলা করে মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।
সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিবাগত রাতে বোরচর থেকে ট্রলারে করে অর্ধ-শতাধিক লোকজন মুখ বেঁধে শর্টগান থেকে এলোপাতাড়ি ফাকা গুলি ছাড়ে এবং রামদা দিয়ে বাড়িঘরের টিন ও দরজা ভেঙে মানুষজনের উপর হামলা ও নগদ টাকা লুটপাট করে। তারা আমার ঘরে হামলা করলে আমার ৮ মাসের বাচ্চা ভয়ে চিৎকার ও দম বন্ধ হবার উপক্রম ঘটে। এই ঘটনায় মাননীয় সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।”
অপর এক ভুক্তভোগী রেফায়েত মোল্লা বলেন,”আমি ও আমার পরিবার ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম হঠাৎ করেই গোলাগুলি শব্দে ঘুম ভাঙ্গলে দেখি আমার ঘরের উপর হামলা হচ্ছে এবং গতকাল নতুন কেনা অটো রিক্সাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। পরে তারা ঘরে ঢুকে ঘরে থাকা ঋণ শোধ করার পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এবং দা দিয়ে কোপ দিয়ে পা কেটে ফেলে।”
উপজেলার বোরচর গ্রামের মৃত জাকির বকাউলের ছেলে সিদ্দিক বকাউলের নেতৃত্বে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিদ্দিক বকাউল এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না বলেন, “রাতের আঁধারে নিরীহ মানুষের উপর হামলা একটি নির্মমতার বহিঃপ্রকাশ। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টিতে গভীর নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করছি।”
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহীদ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’