শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ 

রাফিউ হাসান হামজা প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪, ৮:১৮ পিএম
শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ 
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়্যারম্যান, ভাইস চেয়্যারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়্যারম্যান পদে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সর্বমোট ১১ জন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে শাহরাস্তি উপজেলা। আগামী ২১ মে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।
আসন্ন এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক ইঞ্জি. মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন পাটওয়ারী, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মিন্টু, তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা মো. ওমর ফারুক রুমি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
একই সঙ্গে ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরানসহ আওয়ামীলীগ নেতা মো. ওমর ফারুক, সাবেক ছাত্রলীগের সভাপতি ইমদাদুল হক মিলন ও মো. ইব্রাহীম খলিল এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজলসহ নাজমুন নাহার, হনুফা আক্তার, হাছিনা আক্তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়্যারম্যান নাসরীন জাহান শেফালী এই নির্বাচনে ব্যক্তিগত কারণে দাঁড়াবেন না বলে আগেই নিশ্চিত করেছিলেন, তাই তিনি মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন নি। তাছাড়া শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস মিন্টু মনোনয়ন জমা দেয়ার তারিখের পূর্বে হাক-ডাক দিলেও অজানা কারণে তিনিও আর মনোনয়ন ক্রয় করেন নি।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম। এই আসনে আওয়ামী লীগের আরেক নেতা সফিকুল আলম ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়্যারম্যান মো. কামরুজ্জামান মিন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী সফিকুল আলম ফিরোজের পক্ষে নির্বাচন করেছিলেন।
অন্যদিকে উপজেলার বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক ইঞ্জি. মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন পাটওয়ারী এবং তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা মো. ওমর ফারুক রুমি আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমের অনুসারী।
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোফিয়া সুলতানা জানান, আগামী ২ মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ২১ মে মঙ্গলবার সকাল ৮ টা হতে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপি’র একাধিক নেতা বলেন, ‘সারা দেশেই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যেসব নেতা-কর্মী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। আমরা দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে উপজেলায় কোন বিএনপি বা আমাদের সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়ায় নি।’
জামায়াতের একজন প্রার্থীর ব্যানার ও পোষ্টার মনোনয়ন পত্র কিনার পূর্বে চারিদিকে দেখা গেলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন নি। তাছাড়া জাতীয় পার্টি বা অন্যান্য কোন দলের প্রার্থী আসন্ন শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র ক্রয় করে নাই।
সকল প্রার্থী আওয়ামী লীগের হওয়ায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ভোটের মাঠে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল। বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দলের কেউ যেহেতু আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দাঁড়ায় নি, সেক্ষেত্রে এসব দলের নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’