শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ৪ ক্যাটাগরিতে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

মেহেদী হাসান রিমেল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০২৪, ৭:২২ পিএম
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে ৪ ক্যাটাগরিতে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অধ্যক্ষ এবং প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে।

সম্প্রতি সেরা এসব শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে গত ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম জাহাঙ্গীর আলমের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রকাশিত তালিকানুযায়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ উপজেলার পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ আহম্মদ শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (অধ্যক্ষ), কলেজ পর্যায়ে সহকারি অধ্যাপক তৌহিদা আকতার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, কলেজ পর্যায়ে ফারিয়া ইসলাম লাবণ্য শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।

Model Hospital

জানা গেছে, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪ সালের উপলক্ষে হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ফলাফল, শিক্ষকদের যোগ্যতা, অবকাঠামোগত সুবিধা, প্রশাসনিক ও আর্থিক শৃঙ্খলা, আইসিটি দক্ষতা, পঠন-পাঠনে নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি বিবেচনায় হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এ কলেজের অধ্যক্ষকে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত করা হয়। এর আগে ২০২২ সালে এই কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ আহম্মদ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এসএসসি ও এইচএসসি সহ সব পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কলেজের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে আসছে।

হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মাসুদ আহম্মদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রথমেই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করি। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম জীবন্ত কিংবদন্তি ১নং সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা, হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি আসনের সাংসদ মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়ের পৃষ্টপোষকতায় ও কলেজের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. সহিদ উল্লা মিয়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে কলেজটি পরিচালিত হচ্ছে এবং আমরা এ সম্মান পেয়েছি। পরিশ্রম কোনো দিনই বৃথা যায় না। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রেষ্ঠ কলেজ, শেষ্ঠ কলেজ প্রধান (অধ্যক্ষ), শেষ্ঠ শিক্ষক ও শেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে মনোনীত করায় উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আরো জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ- ২০২৪ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আবেদন আহ্বান করে উপজেলা প্রশাসন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাপ্ত আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে ক্যাটাগরি অনুযায়ী সেরা নির্বাচিত করে উপজেলা প্রশাসনের মনোনীত বোর্ড। গত মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা হলরুমে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাজীগঞ্জ কলেজ (কলেজ পর্যায়) নির্বাচিত করা হয়।

এ অর্জনে আমি কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাননীয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম মহোদয়, কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোঃ সহিদ উল্লা মিয়াসহ গভর্নিং বডির সকল সদস্য, সন্মানিত শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ ও কলেজ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস শীল বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারো জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আবেদন আহ্বান করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’