শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ

মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০২৪, ৯:০৮ পিএম
শাহরাস্তিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ
আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ ২য় ধাপের সাধারণ  নির্বাচনে শাহরাস্তি উপজেলায় ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মাঝে প্রতীক  বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বশির আহমেদ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) চাঁদপুর ও নির্বাচন রিটার্নিং অফিসার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই প্রতীক বরাদ্দ দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, গত ২১ এপ্রিল রবিবার শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে চেয়ারম্যান পদে ৩,  ভাইস চেয়ারম্যান ৫, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জনসহ সর্বমোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন।
এতে ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জনের মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়। ওই সময় চেয়ারম্যান পদে বাছাই শেষে মনোনয়ন পত্র বৈধ হয় শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মো:  কামরুজ্জামান মিন্টু, তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা সমাজসেবক মো: ওমর  ফারুক রুমি, বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজ সেবক ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ মুকবুল  হোসেন পাটওয়ারী।
গত ৩০শে এপ্রিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: কামরুজ্জামান মিন্টু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চাঁদপুর রিটানিং কর্মকর্তা বরাবরের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
এতে চেয়ারম্যান পদে তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা সমাজসেবক  মো: ওমর ফারুক রুমি, বিশিষ্ট শিল্পপতি সমাজ সেবক ইঞ্জিঃ মোহাম্মদ মুকবুল হোসেন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে রয়ে যান।
এ ছাড়া  ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাইয়ে শাহরাস্তি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ নূর আলমের নাম বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তীতে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানিতে তিনি নির্বাচনে প্রার্থীতার বৈধতা ফিরে পায়।
এদিকে বৃহস্পতিবার ২মে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত আসনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।
এতে চেয়ারম্যান পদে মো: ওমর ফারুক রুমি প্রতিক (আনারস), ইঞ্জি: মো: মকবুল হোসেন পাটোয়ারী প্রতিক (ঘোড়া) ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ তোফায়েল আহমেদ ইরান প্রতিক (উড়োজাহাজ) মো: নূর আলম প্রতিক (তালা) ইমদাদুল হক মিলন প্রতিক (চশমা) মো: ওমর ফারুক পাটোয়ারী প্রতিক (টিউবওয়েল) মো: ইব্রাহিম খলিল পন্ডিত প্রতিক (মাইক) বরাদ্দ পেয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল প্রতিক (হাঁস), হাসিনা আক্তার প্রতিক (প্রজাপতি), হনুফা আক্তার মৌসুমী প্রতিক (ফুটবল)  ও নাজমুন নাহার স্বপ্না (কলস)  প্রতিক বরাদ্দ পেয়েছেন।
এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সহ উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শওকত জামিল সৈকত শাহরাস্তি পৌর মেয়র হাজী আবদুল লতিফ সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এই নির্বাচনে ০১টি পৌরসভা ও ১০ টি ইউপিতে ৬৫টি ভোটকেন্দ্রে স্থায়ী ৩৯৯ অস্থায়ী ৬৬ সহ সর্বমোট  ৪৬৫ ভোট কক্ষে ১,০৪,০১৪ জন পুরুষ এবং ১,০২,২২৯ জন নারী ভোটারসহ সর্বমোট  ২,০৬,২৪৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
২১ মে মঙ্গলবার সকাল ০৮:০০ টা হতে বিকাল ০৪:০০ টা পর্যন্ত ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’