শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা

ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন জনসেবার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: রবিবার, ৫ মে, ২০২৪, ১০:৫১ পিএম
ভোটারদের মন জয় করতে দিচ্ছেন জনসেবার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি

প্রথম ধাপে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইভিএম এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণের আর মাত্র দুই দিন বাকি। তাই শেষ মূহুর্তের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। আগামী বুধবার (৮ মে) নির্বাচনকে সামনে রেখে কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের কাছে আধুনিক মতলব দক্ষিণ উপজেলা গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে ছুটছেন প্রার্থীরা। চলছে পোস্টার, ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণ। তাদের বিরামহীন প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

ভোটারদের মন জয় করতে চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিদিন নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করছেন। জনসেবার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন ভোটারদেরকে। সেই সঙ্গে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ভোট যুদ্ধে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে কে এগিয়ে রয়েছেন তার হিসাব নিকাশও করছেন সাধারণ ভোটাররা। নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না ৮ তারিখ বিজয়ের মালা কে পড়বেন। কার হাত ধরে হবে উপজেলাবাসীর ভাগ্য উন্নয়ন। যোগ্য প্রার্থী বেছে নেয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশও চান ভোটাররা।

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিনজন। তারা হলেন, উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিএইচএম কবির আহমেদ (প্রতীক-ঘোড়া), উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকতার (প্রতীক দোয়াত-কলম), খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মন্জুর হোসেন রিপন ( প্রতীক-আনারস)। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ২ জন। তারা হলেন আসমা আক্তার আখিঁ (ফুটবল) ও শিলা মনি ( প্রতীক হাঁস)।

এছাড়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শওকত আলী দেওয়ান বাদল।

Model Hospital

উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএইচএম কবির আহমেদ তার চলমান কর্মকান্ড এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করতে ভোটারদেরকে ঘোড়া মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। অপরদিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার তিনি ভোটারদেরকে তার সময়কার উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং ভবিষ্যতে স্মার্ট পরিচ্ছন্ন এবং দুর্নীতি মুক্ত উপজেলা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন দোয়াত কলম মার্কায়।

এদিকে এবারই প্রথম মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মন্জুর হোসেন রিপন। তৃণমূল পর্যায়ে জনসেবার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট স্বনির্ভর উপজেলা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে আনারস প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন তিনি।

পিছিয়ে নেই মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে ভোট প্রার্থনায় চষে বেড়াচ্ছেন উপজেলার পাড়া-মহল্লা। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছমা আক্তার আঁখি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফুটবল প্রতীক নিয়ে। অপর মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শিলা মনির নির্বাচনী প্রতীক হাঁস। তারা উপজেলাবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ভোটারদেরকে।

চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ মন্জুর হোসেন রিপন বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মতলব দক্ষিণ উপজেলাবাসীর কাছে আমি নতুন মুখ। আমি সব সময় জনগণের সাথে আছি। তাই আমার জনসমর্থনও আছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমার লালিত স্বপ্ন দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান প্রার্থী তিনজনের মধ্যে আমি বয়সে তরুণ। মতলবের তরুণ সমাজসহ দলমত নির্বিশেষে মতলব দক্ষিণ উপজেলার জনগণ আমাকে জনসেবার সুযোগ দিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের অংশ হিসেবে আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে একটি বিবর্তনমূলক স্মার্ট উপজেলা গঠনের চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

অপর প্রার্থী মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা তালুকদার বলেন, আমি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করে আধুনিক মতলব উপহার দেয়ার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে আমি নির্বাচিত হলে আমাদের এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের মাধ্যমে এই মতলবকে স্মার্ট উপজেলায় রূপান্তরিত করবো। তাই উপজেলাবাসী ভোটের মাধ্যমে আমাকে আবারো নির্বাচিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান বিএইচএম কবির আহমেদ নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মূহুর্তে বলেন, আমি উপ-নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর আমারা সময়টুকু দলমত নির্বিশেষে সকলের কল্যাণে ব্যয় করার চেষ্টা করেছি। জনগণ আমার কাজের মূল্যায়ন করে আবারো আমাকে আমার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া মার্কায় ভোট দিবে বলে উপজেলাবাসীর কাছে আমি প্রত্যাশা করি।

মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৮টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৯৭ হাজার ২৬ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৭৮জন। মহিলা ভোটার ৯৬ হাজার ৪৭ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ জন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’