শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি হলেন চাঁদপুরের রুপক

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ মে, ২০২৪, ৯:২৭ পিএম
চবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি হলেন চাঁদপুরের রুপক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার চাপাতলী গ্রামের রেফায়েত উল্যাহ রুপক।
গত শনিবার (৪ মে) উক্ত কমিটি আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদন দিয়েছেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান।
কমিটিতে রবিউল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক ও মাহমুদুল হাসান সরোয়ারকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও উক্ত কমিটিতে পাঁচজন উপদেষ্টা পরিষদ রাখা হয়েছে।
তিনি কচুয়ার ঐতিহ্যবাহী মাসনিগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিন উল্যাহ এর কনিষ্ঠ সন্তান। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হওয়া রুপক ছোটবেলা থেকেই নানা সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত। স্কুল জীবনেই যুক্ত হন স্কাউটিং এর সাথে।
পরবর্তীতে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস চাই – (পকচা)।শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন -২০১৬ তে নিজ স্কুলে সর্বাধিক ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৈরী করা “সততা সংঘের” নিজ স্কুল কমিটির সভাপতি ছিলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও নানা সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত হন রেফায়েত উল্যাহ রুপক। নিয়মিত জাতীয় পত্রিকায় কলাম ও মতামত লেখার পাশাপাশি করছেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতাও। দৈনিক সকালের সময় ও দৈনিক খবর সংযোগের চবি প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। যুক্ত আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (চবিসাস) সাথেও।
উল্লেখ্য, বসুন্ধরা শুভসংঘ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের একটি সামাজিক সংগঠন। “শুভ কাজে সবার আগে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটি বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও সেবামূলক কাজ করে আসছে। পদাধিকারবলে রেফায়েত উল্যাহ রুপক সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটিরও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’