শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা

ড. মুহাম্মদ আবদুল কাদের প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, ৮:৪৫ পিএম
লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা

চট্টগ্রামের অন্তর্গত লোহাগাড়া উপজেলাধীন একটি সুখ্যাত দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন’র নাম ”লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা। এটি লোহাগাড়া উপজেলার পূর্বপাশে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নে অবস্থিত। এর মাঠ ঘেষে (মাঠের পূর্ব পার্শে) “মধ্য লোহাগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়”, অনতিদূরে উত্তরপূর্ব পাশে “শাহপীর উচ্চ বিদ্যালয়”, মোস্তফা বেগম গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ ও উত্তর পশ্চিমে আলহাজ্ব মুস্তফিজুর রহমান কলেজ এর অবস্থান।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক জনাব গোলাম রহমান কেরানী প্রথম জমি দান করে এলাকার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক জনাব আলহাজ্ব মাওলানা আহমদ কবির, জনাব মাওলানা লোকমান আহমদ, জনাব আসহাব মিয়া, জনাব ফরুক আহমদ, জনাব রবিউল্লাহ, জনাব আহমদ কবির, জনাব দানু মিয়া, জনাব মুহাম্মদ ইসমাইল, জনাব বদিউর রহমান, জনাব হাজী দানু মিয়া (রহ) প্রমূখকে সাথে নিয়ে ১৯৪৫ সালে এই দ্বীনি শিক্ষা নিকেতন প্রতিষ্ঠা করেন বলে জানা যায়। উল্লেখ্য, ১০ জুন ২০২১ ইংরেজি গভর্ণিং বডির সদস্যবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুসারে উপরোক্ত মহান ব্যক্তিবর্গই এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ স্বীকৃত, যাঁদের দান, ত্যাগ, ঘামঝরা শ্রম ও পরামর্শে লোহাগাড় ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার গোড়া পত্তন হয়।

লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড,ঢাকা কতৃক ১৯৫১ সালে দাখিল, ১৯৭০ সালে আলিম, ফাজিল এবং ১৯৭২ সালে বিজ্ঞানের মঞ্জুরী লাভ করে। এরপরে ২০০৬ সালে মাদ্রাসাটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়, এবং ২০১৬ সালে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্থানান্তরিত হয়। এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গরীব অসহায় ও এতীম ছাত্রদের জন্য ৩০ই জানুয়ারী ১৯৯২ সালে সমাজ সেবা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কতৃক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত “কর্ণেল (অবঃ) অলি আহমদ (বীর বিক্রম) এতিমখানা” নামে এতিমখানা চালু করা হয়। ১৯৬০ সালে শাহ মজিদিয়া হেফজখানা নামে হেফজখানা চালু হয়। অত্র মাদরাসার EIIN (Education Institute Identification Number) হচ্ছে ১০৪৫৭২। আর MPO নং হচ্ছে ২১৮০৪২৩০১ এবং মাদরাসা কোড হচ্ছে ১৭৫৪২।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন যারা।
১.মাওলানা আবদুর রউফ রহ: (বাঁশখালী) (০১/১১/১৯৭৬—-৩০/০৯/১৯৭৭),
২. জনাব মাওলনা শফিক আহমদ রহ: (চুনতি) (০১/১০/১৯৭৭—-৩১/০৭/১৯৮০)
৩.মাওলানা মোস্তফিজুর রহমান (সাতকানিয়া) (০১/০৮/১৯৮০—-৩১/০১/১৯৮৯)
৪. মাওলানা মোস্তফা কামাল রহ: (লোহাগাড়া) (০১/০২/১৯৮৯—–৩১/০৮/১৯৯৪)
৫.মোহাম্মদ মোজতবা রহ: (চুনতি)(০৩/১০/১৯৯৪—–০৫/০৪/২০১০)
৬.এ, এ, এম ফাতহুল কাদীর (খুলনা) (২৬/০৯/২০১০—-১০/১০/২০১৫)
৭. মুহাম্মদ এনামুল করীম আনছারী (ভারপ্রাপ্ত) (সাতকানিয়া) (১১/১০/২০১৫—-১৯/১১/২০১৭)
৮. ড. মাওলানা মাহমুদুল হক ওসমানী (ভারপ্রাপ্ত) (লোহাগাড়া) (২০/১১/২০১৭—-৩১-১০/২০২২)
৯. ড. মুহাম্মদ আবদুল কাদের (০১/১১/২০২২ইং —বর্তমান)

Model Hospital

•অত্র মাদরাসা গভর্ণিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা আহমদ ছফা ফারুকী। এর আগেও অনেকেই সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন যারা – জনাব আলহাজ্ব মুস্তফিজুর রহমান চৌধুরী, জনাব মুহাম্মদ আরমান বাবু রুমেল। বাকী দীর্ঘসময় ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এডিসি মহোদয়গণ দায়িত্বে ছিলেন। মূলতঃ তখনকার সময়ে শিক্ষা বঞ্চিত অত্র এলাকার সর্বসাধারণে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করতেই তাঁদের এই মহৎ প্রয়াস। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে এলাকার সবশ্রেণির বাসিন্দা তাঁদের এই সৎকর্মের সুফল ভোগ করছে। আজ সত্যিই এই দ্বীনি কানন এলাকার ধনী, গরীব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার অন্যতম ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এখানে উপযুক্ত ওলামা ও যোগ্য নাগরিক তৈরী করতে বাংলা ছাড়াও আরবি, ইংরেজি ভাষা, তথ্য-প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ ও উত্তম চরিত্র গঠনের উপর সমধিক গুরুত্বারোপ করা হয়।

এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে অনেক খ্যাতিমান সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা, শিক্ষক, ওয়ায়েজ, দাঈ ইলাল্লাহ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সেক্টর কর্মরত অসংখ্য ব্যক্তিবর্গ স্ব-স্ব স্থানে আলো ছড়াচ্ছেন।

লেখক : ড. মুহাম্মদ আবদুল কাদের
অধ্যক্ষ, লোহাগাড়া ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা। লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।