শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র বীজ ধান বিতরণ

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:১৮ পিএম
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র বীজ ধান বিতরণ
কৃষি বাংলাদেশের চালিকাশক্তি, কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ এ শ্লোগানে জলাবন্ধতায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বীজ ধান বিতরণ করেছে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম। সাম্প্রতিক সময়ে টানা বৃষ্টির কারনে জলাবন্ধতায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফরিদগঞ্জের কৃষক। জলাবদ্ধতায় প্রায় সকল ধরনের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়। সকল কৃষকের বীজ তলা নষ্ট হয়ে যায়। কৃষক যখন দিশেহারা তখনই ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরামের এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করে।
জলাবন্ধতার কারনে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় উপজেলার মানুষের নিজস্ব খাদ্য ভান্ডারে সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের প্রধান উৎপাদিত ফসল হচ্ছে ধান। সেই চিন্তা থেকে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম খাদ্য সংকট যেন না দেখা দেয় তাই বীজ ধান বিতরণ করা হয়।
৮ সেপ্টেম্বর রবিবার বিকেলে আইফা মিলনায়তনে উপজেলার কৃষকদের মাঝে ৫০০ কেজি বীজ ধান বিতরণ করা হয়। বীজ ধান বিতরণ পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার কল্লোল কিশোর সরকার।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র এই আয়োজনটি ছিলো সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ইউনিক এই আইডিয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ পেতেই পারে। ৫০০ কেজি বীজে প্রায় ৭ শত মানুষের এক বছরের খাদ্যের জোগান হবে। সবাই যেখানে জলাবন্ধতায় খাদ্য বিতরণ করেছে সেখানে লেখক ফোরাম কৃষকদের বীজ দিয়েছে। ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকট দূর করার লক্ষে এই আয়োজন।’
ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম’র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম ফরহাদের সঞ্চালনায়, সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন সজিব’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ফরিদগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ এম এম টুটুল পাটওয়ারী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লেখক ফোরাম’র সাবেক সভাপতি কে এম নজরুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাবেয়া আক্তার, উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল মুকুল, সাবেক সভাপতি কাউছার আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো.সাহেদ, নির্বাহী সদস্য ফরিদ আহমেদ মুন্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্রী বাঁধন চন্দ্র শীল, তারেক রহমান তারু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সমাজ কল্যান সম্পাদক টিটু হোসেন, নির্বাহী সদস্য আমানউল্লাহ খান ফারাবি প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’