শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

কচুয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির হামলায় আহত ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২, ৩:২৬ পিএম
কচুয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতির হামলায় আহত ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৯নং কড়াইয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের হামলায় একই ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল ইসলামকে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল আলম এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

কচুয়া থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৫ম ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৯নং কড়াইয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেম্বারদের মধ্যে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মোঃ মন্টু মিয়াকে সমর্থন দেয় উক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি।

এরপর থেকে একই ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোরগ প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম ইসলাম ফুটবল প্রতীককে সমর্থন দেয়ায় উক্ত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল আলমকে নানাভাবে হুমকী ধমকী দিয়ে আসছে। এমনকি এ ঘটনায় একই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনও তাঁকে হুমকি এবং দেখিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।

Model Hospital

এই ঘটনার জের ধরে গত ৫ জানুয়ারী নির্বাচন চলাকালে বিকেল ৩ টার দিকে ভোট কেন্দ্রের নিকটবর্তী জনৈক রাজ্জাকের বাড়ির সামনে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ করেই মোরগ প্রতীকের প্রার্থী জহিরুল ইসলামের নির্দেশে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে অলি উল্যাহ (৫০) পিতামৃত- লতিফ, আলমগীর হোসেন (২৫)পিতা – জহিরুল ইসলাম, রাসেল হোসেন (২২) পিতা- ঐ, রাকিব হোসেন (২০) পিতা ঐ, মোঃ হান্নান মিয়াজী (৪২) পিতা – মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মোঃ ফয়সাল আহমেদ (৩২) পিতা- ঐ, টিপু সুলতান রিপন (৪৭), স্বপন মিয়া (৪০) ও রবিউল ইসলাম পিতামৃত- বাচ্চু মিয়া, শাকিব হোসেন (২০)পিতা- হুমায়ূন কবিরসহ আরো ২৫/৩০ জন সহ দেশীয় অস্ত্র সশ্র নিয়ে অর্তকিত হামলা করে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আহত ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি সামছুল আলম ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। এঘটনায় কচুয়া থানায় হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু কচুয়া থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় অভিযোগে উল্লেখকৃত কাউকে আটক করেনি।

অপরদিকে এলাকাবাসী এ ঘটনার জন্য নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’