শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ৫১তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরন

সুস্থ ও সবল জাতি গড়তে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:৩১ পিএম
সুস্থ ও সবল জাতি গড়তে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই : অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন

চাঁদপুরে ৫১তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)' এরশাদ উদ্দিন।

ক্রীড়াই শক্তি – ক্রীড়াই বল” এ প্রতিপাদ্যে চাঁদপুরে বাংলাদেশ জাতীয় মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির উদ্যোগে ৫১ তম গ্রীষ্মকালিন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ৫১তম গ্রীষ্মকালীন দাবা ও সাঁতার জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়।

চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ এর সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক এম আর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)’ এরশাদ উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সুস্থ ও সবল জাতি গড়তে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়াই অন্যতম শক্তি, আমাদের সন্তানদের ক্রীড়ার দিকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিতে হবে। সুস্বাস্থ্য নিয়ে সফল একটি জাতি গঠনে ক্রীড়ার বিকল্প নেই। মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে সমাজকে দূরে রাখতে ক্রীড়া অন্যতম ভূমিকা পালন করে। ক্রীড়া শক্তিকে বিকশিত করতে পারলেই আমাদের উন্নয়ন হবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, প্রতি বছর সাঁতার না জানার ফলে দেশে সতেরো হাজার শিশু মৃত্যুবরণ করে, যা গড়ে ৪৬ জন। সুতরাং সাঁতার জানা সবার জন্যে জরুরি। সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাও করতে হবে।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার রফিকুল ইসলাম, চাঁদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহাবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষিকাবৃন্দ।

প্রসঙ্গ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাঁতার প্রতিযোগিতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুকুড়ে ৪০টি মাধ্যমিক স্কুল,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে। আজ ৫১তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা -২০২৪ এর দ্বিতীয় দিনে কাবাডি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’