শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় দানা, চাঁদপুরে প্রস্তুত ৪৬৪ আশ্রয়কেন্দ্র

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:০৩ পিএম
ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় দানা, চাঁদপুরে প্রস্তুত ৪৬৪ আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় দানার ভয়াল রূপ ধারণ করে স্থলভাগের দিকে ধেয়ে আসতে শুরু করেছে। ফলে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় প্রতিরোধে ৪৬৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন এসব তথ্য জানান।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ঘূর্ণিঝড় দানার পূর্ণ প্রভাব চাঁদপুরে এখনো দেখা না দিলেও পরে এর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার প্রেক্ষিতে নদী তীরবর্তী সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর উপজেলাসহ চরাঞ্চলে সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব এলাকার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স দপ্তর, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদেরকে প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগকালীন সময়ে এসব এলাকার সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবেন। দুর্যোগকালীন সময়ে চরাঞ্চলে কোনো দুর্ঘটনা হলে তাৎক্ষণিক তাদের জন্য উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত থাকবে। এ সময় যেন প্রত্যেকটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা উপস্থিত থাকেন।

Model Hospital

ঘূর্ণিঝড়কালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৯৫ মেট্রিক টন (জিআর) চাল, পর্যাপ্ত পরিমাণ নগদ অর্থ, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য এবং শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও নদী উপকূলীয় এলাকায় ৪৪০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, ১৯টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র ও পাঁচটি মাটির কেল্লা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. গোলাম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম, চাঁদপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা মোহাম্মদ ফয়সাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন সৈকত, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. হেদায়েত উল্লাহ, চাঁদপুর আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক শাহ্ মো. শোয়েব প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’