শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটি সভা

কিশোর অপরাধ নির্মূলে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা রাখতে হবে’ : চাঁদপুর সদর ইউএনও

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:০৭ পিএম
কিশোর অপরাধ নির্মূলে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা রাখতে হবে’ : চাঁদপুর সদর ইউএনও

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত।

চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেছেন, সাম্পতিক সময়ের এক ভয়াবহ সমস্যা হলো কিশোর অপরাধ। কিশোর অপরাধ নির্মূলে পরিবার ও সমাজের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে’ কিশোর অপরাধ দমনে চাঁদপুর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। সবার সহযোগিতায় কিশোর গ্যাং রোধ করতে হবে। কারণ, কিশোরদের যে বয়স, সে বয়সে অপরাধ যেন না করতে পারে সেজন্য আমাদের ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের বুঝিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখাই সবার দায়িত্ব।

বুধবার (৩১ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মা-বাবা যদি তার সন্তান সারাদিন কোথায় ছিল? কার কার সঙ্গে ছিল? কার সঙ্গে মেলামেশা করে এগুলো যদি মা-বাবারা সবসময় খেয়াল রাখেন তাহলে পরিবারের সন্তান বিপদে যেতে পারে না, কোনো সন্তান অপরাধ করতে পারে না। পরিবারের সন্তান ভালো ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে শুধু পরিবারে শান্তি বিরাজ করে না, এলাকায়ও শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করে। তখন তারা দেশের সম্পদে পরিণত হয়। তাই এলাকায় কিশোর অপরাধ মুক্ত করতে পরিবার ও সমাজের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

সাখাওয়াত জামিল সৈকত বলেন, যেখানে অপরাধ হওয়ার আশংকা থাকে, সে বিষয়গুলো সাথে সাথে প্রশাসনকে জানলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদপুর শহর যানজটে নাকাল, দিন দিন চাঁদপুরে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানজট নিরসনে পুলিশ বিভাগ কাজ করছে।

Model Hospital

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোর জন্য টিআর-কাবিখার কাজগুলো যাতে সঠিকভাবে হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। কোনো বিষয়ে অনিয়ম হয়ে থাকলে খতিয়ে দেখা হবে।

সভায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল এমরান খান।

সদর উপজেলা প্রকৌশলীর প্রতিনিধি আইয়ুব খান, উপজেলা কৃষি অফিসার তখন রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজন কুমার দাস, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মকবুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানজিমুল ইসলাম, উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভব রঞ্জন দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুমন কুমার দাস, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার জামাল উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মনির হোসেন, উপজেলা আইসিটি অফিসার মোঃ শাহাজান, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা কাজী শফিকুর রহমান, জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান মামুন, বিএডিসি উপ সহকারী প্রকৌশলী মাহবুব আলম, চাঁদপুর সদর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম মালিক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর শেখ মোঃ হারুনুর রশিদ হীরা, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান, ৯ নং বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সেলিনা আক্তারসহ বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ ও ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’