শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে নিরাপদ সড়ক চাই সভাপতি লতিফ, সম্পাদক রাসেল নির্বাচিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২২, ২:১১ পিএম
চাঁদপুরে নিরাপদ সড়ক চাই সভাপতি লতিফ, সম্পাদক রাসেল নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার : নিরাপদ সড়ক চাই চাঁদপুর জেলা কমিটির নির্বাচন উৎসবমূখর পরিবেশে গতকাল ১৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে সাংবাদিক এম এ লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ মহিউদ্দিন রাসেল ২০২২ ও ২০২৩ সালের জন্য ২ বছর মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন।

সভাপতি পদে সাংবাদিক এম এ লতিফ ৪০ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মাওঃ আবদুর রহমান গাজী পান ১০ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ মহিউদ্দিন রাসেল পান ২৬ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মো: শওকত করিম পান ২৪ ভোট। নির্বাচিত সভাপতি সাংবাদিক এম এ লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল এ নিয়ে টানা ৩ দফায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন।

চাঁদপুর শহরের ক্যাফে কর্নারের ৪র্থ তলায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে শুরু করে একটানা বেলা ২টা পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ৫২ ভোটারের মধ্যে ৫০ জন ভোটার প্রত্যক্ষভাবে তাদের ভোট প্রদান করেন। ভোটারদের মধ্যে ৬ জন মহিলা ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ও সংগঠনের উপদেষ্টা সাংবাদিক সোহেল রুশদী।

নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রেজাল্ট ঘোষণা কালে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী বলেন, অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমূখর পরিবেশে এ নির্বাচন হয়েছে। যা সকল মহলে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। সকল প্রকার ভেদাভেদ ভূলে সংগঠনের স্বার্থে সবাই একযোগে কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি।

Model Hospital

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, নিরাপদ সড়ক চাই চাঁদপুর জেলা কমিটির উপদেষ্টা এডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার। বক্তব্য রাখেন এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিজয়ী সভাপতি সাংবাদিক এম এ লতিফ , বিজয়ী সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, বিজিত প্রতিদ্বন্দ্বি সভাপতি প্রার্থী মাওঃ আবদুর রহমান গাজী, বিজিত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সাধারণ সম্পাদক মো: শওকত করিম ।

নির্বাচিত সভাপতি সাংবাদিক এম এ লতিফ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই চাঁদপুর জেলা কমিটির সকল সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই । আমাদের নির্বাচিত করার জন্য । আগামীতে সকলকে নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনটি চাঁদপুরে এগিয়ে যাবে । যারা বিজিত হয়েছেন তাদেরও সহযোগিতা চাই । আর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই আজকের নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিক সোহেল রুশদী মহোদয়কে । যিনি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনটি পরিচালনা করেছেন ।

এ সময় নিরাপদ সড়ক চাই চাঁদপুর জেলা কমিটির বিপুল সংখ্যক সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন ।
পরে নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফুলের মালা পড়িয়ে দেন নিকটতম বিজিত প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। সংগঠনের সদস্যরাও তাদের মিষ্টিমুখ করান। নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’