শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:০৯ পিএম
দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার ১৯তম বর্ষে পর্দাপণ উপলক্ষে গতকাল পত্রিকার চাঁদপুর শহর প্রেসক্লাবস্থ শহরের সাংবাদিকদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখেন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

চাঁদপুর জেলা শহর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত ও বহুল প্রচারিত দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার ১৯তম বর্ষে পর্দাপণ উপলক্ষে পত্রিকার চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব রোডস্থ পত্রিকার শহরের সাংবাদিকদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১১টায় দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ও বক্তব্য রাখেন দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকা প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

সভাপতি পত্রিকা প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল বক্তব্যে তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছর জেলা শহর ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করা হবে। তার মধ্যে সরকারি অফিসগুলো সামনে প্লে-কার্ড (পেস্টুন) স্থাপন করা হবে। আমাদের পত্রিকাটি বর্তমানে একটি লিডিং পত্রিকা। এ পত্রিকার অনলাইন প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিদিন রাতে সোস্যাল মিডিয়াতে পত্রিকার ই-পেপার পাবলিশ করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি পত্রিকার অনলাইন সংবাদগুলো নিজ নিজ আইডিতে শেয়ার করে পাঠকের দৌড়গোড়ায় পৌছে দিতে হবে।

তিনি বলেন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকাটি পাঠকদের কাছে দিন দিনই চাহিদা বাড়ছে। পত্রিকার ই-পেপারের পাশাপাশি অনলাইন সংস্করণে এগিয়ে রয়েছে। পত্রিকার সংবাদিকদের সংবাদের প্রতি বস্তুনিষ্ঠতায় জোড় দিতে হবে। সঠিক সংবাদ প্রকাশ করতে হবে। পাঠকদের বিশ্বস্ততা অর্জণ করতে হবে । সংবাদের সত্যতার প্রতি অবিচল থাকতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটের উপরে জোড় দিয়ে সংবাদ পাঠাতে হবে।

Model Hospital

তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলার সাংবাদিকদের ঐক্যের প্রতীক চাঁদপুর প্রেসক্লাব, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম, চাঁদপুর জেলা ফটোজার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনসহ সাংবাদিক সংগঠনের সংবাদ গুরুত্বসহ দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকায় প্রকাশ করে আসছে। সামনেও সাংবাদিক সংগঠনের সংবাদ প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে। সে সাথে দৈনিক চাঁদপুর খবর সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করবে।

তিনি বলেন, নতুন বছর উপলক্ষে সাংবাদিকদের নবায়নকৃত আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) দেওয়া হবে। আপনারা যারা উপজেলা পর্যায় রয়েছেন আগামী ২৩ডিসেম্বরের পূর্বে স্ব স্ব উপজেলায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবেন, উক্ত অনুষ্ঠানে আমরা অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করবো। আপনারা পত্রিকায় নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিবেন। আপনারা পত্রিকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবাদ পাঠাতে হবে। আমাদের পত্রিকার অনেক সাংবাদিক খুবই একটিভ আবার অনেকে ইনেকটিভ। এ প্রত্রিকাকে পাঠকের কাছে গ্রহনযোগ্য করে তোলতে হবে।

এসময় তিনি জুলাই-আগস্টে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুথানে যারা শহীদ হয়েছে, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। অভ্যুথানে আহত হয়েছে তাদের দ্রুত সুস্থ্যতা কামনা করছি।

প্রস্তুতি সভা উপস্থিত সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে নিন্ম লিখিত (সম্ভাব্য) কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
১। উপজেলা পর্যায় প্রতিনিধিগণ আগামী ২৩ডিসেম্বরের পূর্বেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিক উদযাপন করবে। (উপজেলা অনুষ্ঠানে সম্পাদক মহোদয়সহ শহরের সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন।)
২। উপজেলা পর্যায়ে প্রত্যেকটি সরকারি অফিসের সামনে উপজেলা প্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিলবোর্ড/ ফেস্টুন স্থাপন করা হবে। ৩। পত্রিকার ১৯ বছরের পদার্পণ উপলক্ষে স্টিকার তৈরী করা হবে। ৪। হকারদের (পত্রিকা বিলি কারক) কে সহযোগিতা করা হবে। ৫। পত্রিকার বিলিকারক একজনকে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হবে।
৬। ১৯ বছর পদার্পণে লগো তৈরি করা এবং প্রচারণা করা হবে। ৭। উপজেলা পর্যায়ে একজন, শহর সাংবাদিক একজন ও সর্বোচ্চ বিজ্ঞাপন সংগ্রহকারী থেকে একজনকে বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করা হবে।
৮। আগামী ২৩ ডিসেম্বর, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, প্রতিনিধি সম্মেলন ও আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে।

পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মাওলানা আহাম্মদ উল্ল্যাহর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, পত্রিকার যুগ্ম বার্তা সম্পাদক মো: ইসমাঈল হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: সাইফুল ইসলাম সিফাত, বিশেষ প্রতিনিধি মো: ইব্রাহিম খান , সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার গাজী মো: ইমাম হাসান, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: মাসুদ হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: রানা সরকার, সিনিয়র স্টাফ রির্পোটার মো: মোহসীন হোসেন, ম্যানেজার মানিক চন্দ্র রায়, অফিস সহকারি মো: হযরত আলী সহ জেলা শহর ও উপজেলা সাংবাদিকবৃন্দ।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক মাওলানা আহাম্মদ উল্ল্যাহ।

সভায় সর্বশেষে দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী উপস্থিত সকল সাংবাদিকদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা সমাপ্ত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’