শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদা না পেয়ে অপহরন চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা

এস. এম ইকবাল প্রকাশিত: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:৩৯ পিএম
চাঁদা না পেয়ে অপহরন চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা

দুই পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল ও মোহাম্মদ আলীর ছবিসহ আদালতের মামলার কপি।

চাঁদা না পেয়ে অপহরন চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশসহ সাত জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী জামিল হোসাইন ঢাকা নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী । তিনি বাদী হয়ে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং- সি.আর. ৭৯৪/২৪।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, বাদী এবং বিবাদী সকলেরই চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের বাসিন্দা। কিন্তু তাদের কর্মক্ষেত্র ঢাকায়। বিবাদীদের ৭ জনের মধ্যে ৫ মুক্তিযোদ্ধা বাদশা পাঠান পরিবারের সদস্য এবং পতিত  সরকারের সমর্থক ও সুবিধাভোগী। এদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এবং মোহাম্মদ আলী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত আছেন। পেশাগত আনুকূল্য আর আওয়ামীলীগের প্রভাব কাজে লাগিয়ে হাসিনা সরকারের সময়ে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, মামলা, হামলাসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তারা।
১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ তারিখে ঢাকা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী (দোকান নং-১০৯) জামিল হোসেনের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। জামিল বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় সমর্থক হওয়ায় এ সুযোগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন বিবাদীরা। গত ২৭ জুলাই ২০২৪ নিউমার্কেটের দোকান থেকে জামিল হোসেনকে অপহরনের চেষ্টা চালান তারা এবং পুনরায় চাঁদা দাবী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ভয়ে জামিল তৎক্ষনাৎ এ ঘটনায় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৩ অক্টোবর নিউমার্কেট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার জিডি নং-১৪১। জিডির বিষয়টি জানা জানি হলে ২২ অক্টোবর জামিলের মোহাম্মদপুরস্থ বাসার নিচে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিবাদীরা। বিষয়টি স্বীকার করলে পুনরায় তাঁকে অপহরন চেষ্টা চালিয়ে বিবাদীরা ব্যর্থ হয়। ২৭ অক্টোবর ভুক্তভোগী জামিল হোসেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ফৌজদারী দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৬৪/৩৮৫/৫০৬(II)/১০৯ ধারায় অপরাধের উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ৭ আসামীর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, মোহাম্মদ আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন, আলমগীর হোসেন, নাহিদুল ইসলাম একই পরিবারের সদস্য। অপর আসামীরা হলেন একই গ্রামের মোঃ আলম ও মোঃ মহসিন।
এ মামলাটি আগামী ৮ ডিসেম্বারের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আওয়ামীলীগ সরকারের সমর্থক ছিলেন। বিগত সময়ে বাল্য বিয়ে না পড়ানোয় ইমামকে মারধর, মসজিদ কমিটি নিয়ে আলেমদের পেটানো, জমি দখল, মামলা বাণিজ্য, সালিশ বাণিজ্যসহ এলাকার মানুষজন তাদের দ্বারা ব্যাপক জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরই জের ধরে ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর মোস্তাফিজুর রহমান দুলালদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এবং মোহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি মিথ্যা। তাদের সাথে আমাদের সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছে। তবে তিনি ৫ আগস্ট তার বাড়িতে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেন। দুলালের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনও বলেন, মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
মামলার বাদী জামিল হোসেন জানান, আমি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সমর্থক ছিলাম। ২৭ জুলাই প্রথমে তারা দোকানে এসে আমাকে বেদম মারধর করে এবং দোকান থেকে অপহরণের চেষ্টা করে। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধের মুখে তারা ব্যর্থ হয়। কিছুক্ষণ পর তাদের সাথে পুলিশের পোশাকধারী কয়েকজন লোক যুক্ত হয়। তারাসহ মারধর করে আমাকে দোকান থেকে নিয়ে যায়। আন্দোলনের সমর্থক হওয়ায় নানান ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। একটা উল্লখযোগ্য টাকা দেওয়ার পর সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যাই। সরকার পতনের পর একটি জিডি করি। জিডির বিষয়টি জানতে পেরে তারা পুনরায় অপহরণ চেষ্টা চালায়। আমি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি এবং আমার কাছ হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া ও আমাকে হয়রানীর ক্ষতিপূরণ দাবী করছি। মামলার সাক্ষী ইব্রাহীম মিয়াজীও অপহরণ চেষ্টার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’