শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলব দক্ষিণে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় প্রাইভেট পড়ায় শিক্ষক ওসমান

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৬:৫১ পিএম
মতলব দক্ষিণে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় প্রাইভেট পড়ায় শিক্ষক ওসমান

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১৬১নং খাদেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ওসমান গণি ও আবু বক্কর সিদ্দিক (শরীফ উল্লাহ) ক্লাস চলা অবস্থায় বিদ্যালয়ের কক্ষে বসেই প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়ম বহির্ভূতভাবে এ প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন প্রাক-প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক ওচমান গনি ও শরীফ উল্লাহ।

সরজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ছুটি হয় বেলা সাড়ে ১১টায় এবং ১২টায় শুরু হয় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর শ্রেণী কার্যক্রম। এসময় ওচমান গনি বিদ্যালয় কক্ষে ৩য় শ্রেনীর শিক্ষার্থী বৃত্ত, ৪র্থ শ্রেণীর জান্নাত ও ৫ম শ্রেণীর তমা রানী, সাবরীনা (তাহিয়া), রাবেয়াসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে প্রাইভেট পড়াতে দেখা গেছে।

এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ওই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক আবু বক্কর সিদ্দিকও (শরীফ উল্লাহ) প্রাইভেট পড়ান।

Model Hospital

অভিযুক্ত শিক্ষক ওসমান গনি বলেন, বিদ্যালয়ে পড়াই ঠিক, কিন্তু ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমি প্রাইভেট পড়াই না।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসের সময় বিদ্যালয় কক্ষেই প্রাইভেট পড়ায় কোন ক্ষমতাবলে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশনআরা বেগম।

এবিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) সেলিনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই (এটিও) সেলিনা বেগম একজন শিক্ষক নেতাকে দিয়ে ফোন করিয়ে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানান।

এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) ফাতেমা মেহের বলেন, আমি এটিও সেলিনার সাথে এখনই কথা বলবো এবং অভিযুক্ত শিক্ষক ওসমান গনি ও আবু বক্কর সিদ্দিক শরীফকে আমার অফিসে ডেকে এনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’