শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ উপলক্ষে চাঁদপুরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভা

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:৩৮ পিএম
জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ উপলক্ষে চাঁদপুরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভা

জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ উপলক্ষে চাঁদপুরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জিএম মানিক

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, চাঁদপুর জেলার উদ্যোগে “জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ”উপলক্ষে ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখা ও জাতীয় ঐক্যকে সুসংহত করার লক্ষে চাঁদপুর জেলা ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র সংগঠনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ ডিসেম্বর)  বিকেলে গণ অধিকার  পরিশোধ কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জিএম মানিকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নুরনবী আহমেদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন  জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মহররম আলী, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, চাঁদপুর জেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মো. পাপন, সৈয়দ সাকিবুুল ইসলাম, মো. রাকিব ভূইয়া।
চাঁদপুর জেলা ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি মো. রাকিব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডি এম ফয়সাল, চাঁদপুর জেলা ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মো. সিয়াম হোসেন খাঁন, চাঁদপুর জেলা ছাত্র মজলিজের প্রতিনিধি ইসমাঈল, চাঁদপুর জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান সহ পারভেজ, রুবেল, ওহিদুল, শাওন, নাজিম ও বিভিন্ন উপজেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এই সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি জিএম মানিক বলেন, দেশমাতৃকা রক্ষায় এবং চাঁদপুরের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় একসাথে সকল ছাত্র সংগঠনগুলোকে কাজ করে যাওয়ার জন্য আহ্বান করেন। এই সময় তিনি আরো বলেন চাঁদপুরে ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোন ভাবেই ঠাই দেওয়া হবেনা আর আমরা চাঁদপুরের ছাত্র সংগঠন গুলো একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে।  অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ চাঁদপুরের স্বার্থ রক্ষায় একসাথে কাজ করে যাওয়ার জন্য অঙ্গীকার করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় সংকট মোকাবিলায় ছাত্রসমাজের ঐক্যের বিকল্প নেই। জাতীয় স্বার্থে কাজ করার জন্য আমাদের একটি সম্মিলিত চেতনা প্রয়োজন, যা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রেরণা দেয়। এই চেতনার আলোকে আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে যাব। জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহের কার্যক্রম এই লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সভায় ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ এবং অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা শুধু একটি সময়কাল নয়, বরং এটি জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি দিকনির্দেশনা।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’