শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নারীর অনুপ্রেরণায়

বাংলাদেশের গিটার অঙ্গনে দুরন্ত এক প্রতিভার নাম দিলীপ কুমার ঘোষ

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৭:৩৫ পিএম
বাংলাদেশের গিটার অঙ্গনে দুরন্ত এক প্রতিভার নাম দিলীপ কুমার ঘোষ

বাংলাদেশের গিটার অঙ্গনে দুরন্ত এক প্রতিভার নাম দিলীপ কুমার ঘোষ। বাজনা করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখেন তিনি। আর তাই তো তিনি যখন স্টেজে ওঠেন বাঁধভাঙা উল্লাসে মাতেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। প্রতিভাবান এই মিউজিশিয়ান ৩ যুগেরও বেশি সময় ধরে গিটারিস্ট হিসেবে থাকলেও চলেছেন অনেকটা আওয়াজ কম নীতিতে। তবে কিছু অনুষ্ঠান নিজস্ব শক্তিতে তাকে নিয়ে এসেছে আলোচনায়, মুখর করেছে শ্রোতার ভালোবাসায়।

দিলীপ কুমার ঘোষ একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। চাকুরি ও পরিবার সামলিয়ে সুযোগ পেলেই শিল্প-সাংস্কৃতির ময়দানে সরব থাকতেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সহধর্মীনী ঝর্না ঘোষ তার পথচলায় উৎসাহ জুগিয়েছেন। জনপ্রশাসন পদক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি পদক সহ তার বর্ণাঢ্য জীবনে রয়েছে অনেক প্রাপ্তি। বর্তমানে তিনি চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির পর্যবেক্ষক ও ন্যায় পালের দায়িত্ব পালন করছেন। সদা হাসোজ্জ্বল, প্রাণবন্ত এই মানুষটির জন্ম ১৯৬০ সালে ৩১ জানুয়ারি চাঁদপুরের পুরানবাজারস্থ ঘোষ পাড়ায়।

তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি করেন। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। ১৯৮৭ সালের দিকে চাঁদপুর শহরের জোড়পুকুর পাড়ে একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ‘আমার ভাইয়ে রক্তে রাঙানো’ গানটি তৎকালীন হাওয়াইয়ান গিটার শিল্পীরা দর্শকদের উদ্দেশ্যে পরিবেশন করেন। সেই সুর নাড়া দেয় দিলীপ ঘোষের প্রাণে। সেই থেকে গিটার তার নিত্যসঙ্গী। চাকুরির পাশাপাশি হাওয়াইয়ান গিটার অনুশীলন শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে গিটারের ওপর দক্ষতা অর্জন করেন। অসংখ্য শিক্ষার্থীকেও তিনি হাওয়াইয়ান গিটারের তালিম দিয়েছেন। এরমধ্যে ঐশী ঘোষ তার কাছ থেকে দিক্ষা নিয়ে খুব অল্প সময়ে বোদ্ধামহলের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন।

বগুড়ায় কথাশিল্পী নাহিদ হাসান রবিনের কাছ থেকে বই উপহার গ্রহণ করছেন চর্যাপদ একাডেমির মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি ও গিটারশিল্পী দিলীপ ঘোষ।

বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন জায়গায় হাওয়াইয়ান গিটার পরিবেশন করে দিলীপ কুমার ঘোষ বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেন। তিনি গণিত শাস্ত্রেও বেশ পারদর্শী। গিটারচর্চা ও সরকারি চাকুরির পাশাপাশি দীর্ঘ ৪৫ বছরের অধিক সময় ধরে তিনি চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের গণিত বিষয়ক পাঠদান করেন। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

Model Hospital

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই ছেলের জনক। তার স্ত্রী গৃহবধূ। এতটুকু আসার পেছনে কার বেশি ভূমিকা রয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে, দিলীপ কুমার ঘোষ অনায়াশেই জবাব দেন, স্ত্রীর। তার অনুপ্রেরণা আমার গিটারচর্চাকে শানিত করেছে।

জানা গেছে দিলীপ কুমার ঘোষ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ গিটার শিল্পী সংস্থা কর্তৃক পদক লাভ করেন। এছাড়া তিনি ২০১৮ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস জেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মাননা, ২০১৮ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মাননা, রোটারী ইন্টারন্যাশন ক্লাব কর্তৃক ভোকেশনাল একসিলেন্ট অ্যাওয়ার্ড (২০১৮-২০১৯) লাভ করেন এবং ২০২১ সালে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির শুভেচ্ছা স্মারক সম্মানে ভূষিত হন। ২০২২ সালে ভারতের অকটিভেন্ট একটি সংস্থা হতে বেষ্ট ইকোলেশন পদক লাভ করেন। ভারতের রবীন্দ্র সংগীত (গিটার) প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিজয়ী সেরা ৩০ জনের মধ্যে বিজয় অর্জন করেন। এছাড়া সরকারি চাকুরিতে থাকাকালীন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত জনপ্রশাসন পদক (পাবলিক এডমিনিট্রেশন এওয়ার্ড ২০১৯) গ্রহণ করেন।

দিলীপ কুমার ঘোষ, বলেন, ‘সবসময় একজন মিউজিয়িশানই হতে চেয়েছি আমি। বলতে পারেন মিউজিক খাই, মিউজিকে ঘুমাই। নিজের প্রিয় কাজটি করতে পারছি, সেটির জন্য শ্রোতার ভালোবাসা পাচ্ছি এরচেয়ে বড় প্রাপ্তি আমার জীবনে আর হতে পারে না!’ বহু গুণে গুনান্বিত দিলীপ কুমার ঘোষ চাঁদপুরে হাওয়াইয়ান গিটারকে আরো অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ এম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে মিজানুর রহমান সরকার ও সুলতান কাজী

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার এবং ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সুলতান কাজী।

গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তারা। এসময় তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ ও প্রত্যেক পরিবারের মাঝে চালের বস্তা প্রদান করেন।

পরিদর্শনকালে খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

Model Hospital