শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করাই আবদুল হাকিম মিয়াজীর নেশা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:৫১ এম
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করাই আবদুল হাকিম মিয়াজীর নেশা
সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে কিছু মানুষ আছেন যাঁরা গড়ে উঠেন সমাজের প্রয়োজনেই। কাজ করেন যাঁরা সমাজ বিনির্মাণের জন্য। কিন্তু কিছু মানুষ এই সমাজের ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করেন, তবে তা নীরবে নিভৃতে। এমনই একজন মানুষ আলহাজ্ব আব্দুল হাকিম মিয়াজী। আত্মপ্রচার নয়, আত্মতৃপ্তিই যাঁর মূল উদ্দেশ্য। মানবতার কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া তেমনই একজন মানুষ তিনি। কখনও মাদরাসার এতিমদের পাশে আবার কখনও কোন দরিদ্র মানুষের ঘরে। প্রতিদিন কোন না কোন ভাল কাজ করা তার নিত্যদিনের অভ্যাস।
আলহাজ্ব আবদুল হাকিম মিয়াজী একজন শিক্ষানুরাগীর নাম। তিনি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।
তিনি একজন পরিচ্ছন্ন সফল ব্যবসায়ী। সেই আয়ের টাকায় নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন একাধিক স্কুল, মাদরাসা ও মসজিদ। অনায়াসে দান করছেন বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল সহ অসহায়দের। স্কুল মাদরাসা ও মসজিদ নির্মান করাই নেশা, মানুষের সেবায় সম্মান বাড়ে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পরম পথ হলো মানুষের সেবা করা। এ বিশ্বাস নিয়ে আলহাজ্ব আবদুল হাকিম মিয়াজী মানবসেবায় ব্রত হিসেবে কাজ করছেন।
আলহাজ্ব আবদুল হাকিম মিয়াজী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার কলাকান্দা গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সদস্য।
তিনি কলাকান্দা হযরত ওমর (রা.) আলিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা, হযরত আলী (রা.) জামে মসজিদ ও হযরত ওসমান (রা.) জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী, কলাকান্দা মহিয়সী নারী হোসনে জাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, কলাকান্দা আফাজ উদ্দিন সরকার বাড়ী জামে মসজিদের সভাপতি, ছেংগারচর বাজার কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের সভাপতি, বারআনি বাইতুন নূর জামে মসজিদের সভাপতি, উত্তর পাঁচআনি আল আকসা জামে মসজিদের সভাপতি, কলাকান্দা হযরত আবু বকর (রা.) জামে মসজিদের সভাপতি।
মৈশাদী মোহাম্মদিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সভাপতি, ছেংগারচর দর্জি বাজার জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা, মতলব দক্ষিণ উপজেলার তাহফিজুল উম্মাহ হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান উপদেষ্টা, টরকী এওয়াজ দারুল কোরআন ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান উপদেষ্টা, আদুরভিটি আন নূর ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সভাপতি, জামিয়া ইসলামিয়া তালিমুচ্ছুন্নাহ মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা, কলাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ও কলাকান্দা ইসলামিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ মাদরাসায় দান অনুদান করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন গ্রামে ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে অংশগ্রহন করে সহায়তা প্রদান করে থাকেন। রমজানে গরীব অসহায়দের ঈদ উপহার ও ঈদ সামগ্রী প্রদান করাসহ গরীব অসহায়দের মেয়েদের বিবাহ কাজে আর্থিক সহায়তা করেন তিনি।
ছেংগারচর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে শিক্ষা বিস্তারের জন্য গড়ে তুলেছেন মহিয়সী নারী হোসনে জাহার উচ্চ বিদ্যালয়। এ বছর নিজ গ্রাম কলাকান্দায় হযরত ওমর (রা.) আলিয়া মাদরাসা গড়ে তোলার জন্য জমি ক্রয় করে শুরু করেছেন ভবন নির্মান।
বৃহত্তর মতলবের যে কোন গ্রামের মেধাবী অসহায় শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা করেন আলহাজ্ব আবদুল হাকিম মিয়াজী। তিনি করোনাকালীন সময়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে আর্থিক সহায়তা করেছেন।

শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ এম
শখ করে বাড়িতে পুষছিলেন বিষধর গোখরা, সেই সাপের ছোবলেই হাসপাতালে চাঁদপুরের কাঠমিস্ত্রি!

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় শখ করে বাড়িতে বিষধর গোখরা সাপ পুষছিলেন স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি ইকবাল হোসেন (৪৫)। সেই সাপের কামড়েই এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার ভূঁইয়াকান্দি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনায়। রাতের সাড়ে ৯টার দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইকবাল হোসেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হন ইকবাল। পরপর দুই ডোজ (২০ ভায়াল) অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর এখন তৃতীয় ডোজই রোগীর জীবন রক্ষায় শেষ চেষ্টা। ২৪ ঘণ্টার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সাপটিকে খাবার দিতে বাক্স খুলেছিলেন কাঠমিস্ত্রির ইকবাল। তখন হঠাৎ করেই সাপটি তার হাতে কামড় দিলে অসুস্থ হয়ে পড়া ইকবালকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও লক্ষণ দেখে এটি বিষধর সাপের কামড় চিহ্নিত হলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রথম ডোজ (১০ ভায়াল) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Model Hospital

ইকবালের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, পাখি পালনসহ বিভিন্ন প্রাণী লালন-পালনের শখ তার স্বামীর। কয়েক মাস আগে বিল থেকে গোখরা সাপটি ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন তিনি। বিষধর সাপটি বাড়িতে না পুষতে রিনা বারবার নিষেধ করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধও হয়েছিল। তবে স্ত্রীর নিষেধ উপেক্ষা করে সাপটি পোষা অব্যাহত রাখেন ইকবাল। শেষ পর্যন্ত সেই সাপের কামড়েই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ইকবাল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিন ইসতেহার জানান, তার অবস্থার উন্নতি না হলে ২য় ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। রোগীর অবস্থা আরও অবনতি হলে সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে ৩য় ডোজও দেওয়া লাগতে পারে। প্রতি ডোজে ১০ ভায়াল।