শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ মরহুম আব্দুল করিম পাটওয়ারীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৪৩ পিএম
আজ মরহুম আব্দুল করিম পাটওয়ারীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ২১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) চাঁদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব সাবেক গণপরিষদের সদস্য ও চাঁদপুর পৌরসভার সাবেক দুইবারের সফল চেয়ারম্যান,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম আব্দুল করিম পাটওয়ারীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

তিনি চাঁদপুরের বৃহত্তর,আওয়ামী পরিবারের, একজন,নির্মোহ,নিরহস্কার অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে একনামে চিনতেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা,বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সব সময় ‘করিম চাচা’ বলে সম্মান করেন এবং এই পরিবারের সাথে তার অন্য রকম সম্পর্ক জড়িত আছে।

২০০০ সালের এইদিন ভোর ৬টা ৩৫ মিনিটে আব্দুল করিম পাটওয়ারী চাঁদপুর শহরের তালতলাস্থল নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেইদিন বিকেল ৫টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

Model Hospital

চাঁদপুরের স্মরণাতীতকালের এ বিশাল জানাজা শেষে তাঁর বাড়ির সামনে পাটোয়ারী বাড়ি মসজিদের দক্ষিণ পাশে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম আব্দুল করিম পাটোয়ারী সব রাজনীতিক দলের নেতা-কর্মী এবং চাঁদপুরবাসীর কাছে ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ এই মহান নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে ভিড় করে। সর্বত্র নেমে আসে শোকের ছায়া।

মরহুম আব্দুল করিম পাটওয়ারী শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না,তিনি ছিলেন শান্তিপ্রিয় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ এবং সমাজসেবক। চাঁদপুর পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করতে তাঁর চিন্তা-চিতনা ও পরিকল্পনা ছিলো অতুলনীয়। সেজন্যে চাঁদপুরবাসী এখনো তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে আসছে। তিনি মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও সুস্পষ্টভাবে তাঁর ছেলেদের বলে গেছেন ‘কষ্ট হলেও সৎ থাকার চেষ্টা করো’ যা তাঁর কবরের পাশে লাগানো নামফলকে এখনো লিপিবদ্ধ রয়েছে।

পারিবারিক কর্মসূচি : ২১ জানুয়ারি মঙ্গলবার মরহুম আব্দুল করিম পাটওয়ারী এর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তালতলাস্থল পাটওয়ারী বাড়িতে পারিবারিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচি মধ্যে রয়েছে- সকাল থেকে কোরআন খতম বাদ আছর পাটওয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল,কবর জিয়ারত,দোয়া মাহফিলে সর্বস্তরের জনসাধারণকে উপস্থিত থাকার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়েছেন মরহুমের বড় ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

জীবনবৃত্তান্ত-মরহুম আব্দুল করিম পাটওয়ারী পিতার নাম মরহুম রৌশন আলী পাটওয়ারী নিবাসী তালতলা পাটওয়ারী বাড়ি চাঁদপুর। তার জন্ম ১৯২৫, মৃত্যু ২১ জানুয়ারি ২০০০ সালে। তার মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। পাকিস্তান শাসনামলে তিনি ছিলেন বিডি মেম্বার ও এমপিএ,১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন সংগ্রাম পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন।

বাংলাদেশকালীন দায়িত্ব,স্বাধীনতা উত্তর চাঁদপুর মহকুমার অস্থায়ী প্রশাসক ও প্রধান বিচারপতি, এমসিএ,তৎকালীন মহকুমার রিলিফ ও ফুড কমিটির সভাপতি, চাঁদপুর পৌরসভার দুই বারের সফল নির্বাচিত চেয়ারম্যান (১৯৭৩)-(১৯৮২) ছিলেন,সামাজিক প্রতিনিধি সাবেক মহাকুমা রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট,পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা রেড কিসেন সোসাইটি আজীবন সদস্য ও কার্যকরী কমিটির সদস্য,চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির উপদেষ্টা কমিটির সদস্য,চাঁদপুর মাজারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য,চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য, ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের চীফ ওয়ার্ডেন, চাঁদপুর জেলা কারাগারের অস্থায়ী পরিদর্শক, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সদস্য, কচি-কাঁচার মেলা চাঁদপুরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিনিধিতৃ,বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি,পাটওয়ারী বাড়ী জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, বাসস্ট্যান্ড মসজিদে গোর-এ গরিবাঁ-এর প্রতিষ্ঠাতা, চাঁদপুর আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান এর পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা (১৯৬৮), রাজনৈতিক (১৯৪৬) সালে মুসলিম লীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে যোগদান, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে, আওয়ামী লীগের যোগদান এবং দীর্ঘদিন চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, ভাষা আন্দোলনে চাঁদপুরে সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের জনক ছিলেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’