শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

৩১ দফা বাস্তবায়নে আলোচনা সভা ও লিফটের বিতরণ

দলকে জনগনের কাছে জনপ্রিয় করাই আমার লক্ষ্য : রাফিউস সাহাদাত ওয়াসিম

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:০৯ পিএম
দলকে জনগনের কাছে জনপ্রিয় করাই আমার লক্ষ্য : রাফিউস সাহাদাত ওয়াসিম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে চাঁদপুরে আলোচনা সভা ও লিফটের বিতরণ করা হয়েছে । ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের শহীদ জাবেদ সড়কে এই আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সফল সভাপতি মোঃ রাফিউস শাহাদাত ওয়াসিম পাটোয়ারী।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি এদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা। বাকশালের শিকল থেকে তিনি এই দেশে গণতন্ত্রের মুক্তি এনে দিয়েছেন। জনগণ জিয়াউর রহমানের বিএনপিকে ভালোবাসে। এই ভালোবাসাকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। জনাব তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসূরী। তিনি আত্মমর্যাদাশীল এবং উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তারেক রহমান ঘোষিত একটি দফার দাওয়াত প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অসম্প্রদায়িক এবং সম্প্রীতির দেশ। ভাতের চাল থেকে শুরু করে কোন খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ধর্মীয় ভেদাভেদ লেখা নাই । এদেশের আলো বাতাস প্রতিটা ধর্মে মানুষের সবার অধিকার রয়েছে। আমাদের দলের প্রতিটা নেতা কর্মীকে নিশ্চিত করতে হবে এই দেশ প্রতিটা ধর্মের মানুষের।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপি কাউকে লিজ দেয়া হয়নি‌ চাঁদপুর জেলা বিএনপির সে পথেই চলবে, যে পথ জনগণ চায়। আগামী দিনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা যাকে নেতা মানবে, তাকেই নেতা নির্বাচিত করা হবে। চাঁদপুরে কোন প্রকার অপরাজিতি করতে দেওয়া হবে না। যে সকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানুষের সাথে জুলুম-অত্যাচার করে নাই, তাদের কোন ক্ষতি করা যাবে না। তবে যারা আওয়ামী লীগ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতন-হামলা-মামলা করেছে, সাধারণ মানুষের উপর জুলুম করেছে, তাদের তালিকা তৈরি করে আইনি মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে।
রাফিউহ শাহাদাত ওয়াসিম পাটোয়ারী বলেন, আমি পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বকে ভালোবেসে। দলকে জনগনের কাছে জনপ্রিয় করাই আমার লক্ষ্য। শহীদ জিয়ার পরিবারের জন্য আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত রয়েছি। আমি যদি কখনো নেতৃত্ব পাই তবে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার। সাংবাদিক, প্রশাসনসহ সমাজের কল্যাণ বয়ে আনা যেকোনো পেশার মানুষকে অসম্মানকারী কাউকে আমার সাথে রাখবো না।
চাঁদপুর জেলা জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি এমদাদুল হক মিলনের সভাপতিত্বে ওহাইমচর উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর নজরুল ইসলাম রুবেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, হাইমচর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা সরদার নূরে আলম জিকু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোশারফ হোসেন সেলিম, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক সুকুমার রায়,
বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমান হাবিব, বরকত উল্যাহ তালুকদার, এডভোকেট ফয়সাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুর রহিম রানা, নাসির গাজী, জিদান, জাহাঙ্গীর, বিল্লাল হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ জাভেদ সড়কের যানবাহনের চালক পথচারী এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার লিফটের বিতরণ করা হয়।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’