শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে ধর্ষণের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩২ পিএম
চাঁদপুরে ধর্ষণের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

চাঁদপুর সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত আসামী হাশিম মিজির দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করে প্রেসি ব্রিফিং করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহরের চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে অ্যাড. দুলাল পাটওয়ারীর বাড়িতে ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী রুজিনা বেগম প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তার মা মাছুমা বেগম, তার স্বজন ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। রুজিনা পশ্চিম হোসেনপুর গ্রামের আ. রহমান মিজির মেয়ে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি উল্লেখ করেন, আমি একজন তালাকপ্রাপ্তা। আমার স্বামীর সাথে প্রায় ১৫ বছর পূর্বে বিচ্ছেদ হয় এবং আমার বাবার বাড়িতে বসবাস করি। আমার প্রতিবেশী মৃত মোহাম্মদ মিজির ছেলে হাশিম মিজির স্ত্রী গত ২/৩বছর পূর্বে মারা যায়। এরপর থেকে তিনি আমাকে চলাচলের পথ রোধ করে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমি এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে। কারণ তিনি এলাকার একজন প্রভাবশালী দুষ্টু প্রকৃতির লোক। সর্বশেষ গত ২৭/০৯/২০২৪ইং তারিখ রাতে আমি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিলে ঘরের বাহিরে বের হই। ওই সুযোগে হাশিম মিজি আমার ঘরে প্রবেশ করে এবং আমি ঘরে প্রবেশ করলে দরজা বন্ধ করে আমার সাথে বিয়ের আশ্বাসে শারিরীক সম্পর্ক করে। যার ফলে আমি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়ি। এরপর আমাকে বিয়ে না করে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। বিয়ের আশ্বাস দিয়েও বিয়ে না করে নানা টালবাহনা করে।

স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় আমি গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে হাশিম মিজিকে বিবাদী করে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মামলা করি। ওই মামলায় তদন্ত সাপেক্ষে পুলিশ বিবাদী হাশিম মিজিকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতে পাঠায়। মামলটি চলমান। তবে বিবাদী এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে এবং সে সুদের কারবারে জড়িত থাকায় তার টাকা পয়সা অনেক। সে অর্থ ও এলাকার কু-চুক্রি মহল ব্যবহার করে আমাকে নিয়মিত হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। জানতে পারি আমলি আদালতে তার জামিন না দেয়ার কারণে সর্বশেষ সে জেলা জজ আদালত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী জামিন নেয়।

Model Hospital

আসামী হাশিম মিজি জামিনের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে তার লোকজন দিয়ে আমাকে নানা ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে, আমি যেন ন্যয় বিচার থেকে বঞ্চিত হই। যার জন্য আসামীর ছেলে সাদ্দাম হোসেন মিজি এলাকার একটি কু-চক্রি মহল সংঘবদ্ধ করে অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং আমাকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।

এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে আমি জানতে পেরেছি আসামী হাশিম মিজি একজন সুদী কারবারি এবং এলাকা শালিশসহ বিভিন্ন মানুষের দালালীর কাজ করে। এলাকার দালাল চক্রের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ থাকে।

আমি মামলা দায়েরের পর গত প্রায় একমাস আসামী হাশিম মিজির ছেলে ১. সাদ্দাম হোসেন মিজি, এলাকার বিএনপির নামধারী ২. হোসেনপুর গ্রামের শরাফত আলী মালের ছেলে বিল্লাল হোসেন মাল (বিল্লাল মেম্বার), ৩. শাহজাহান মালের ছেলে মো. মাসুদ মাল, ৪. নাছির মোল্লার ছেলে মহসিন মোল্লা, ৫. মোহর আলী মোল্লার ছেলে তাজল মোল্লা, ৬. আজিম খানের (আজিম রাজাকার) ছেলে দেলোয়ার হোসেন খান (মাষ্টার), ৭. হাসিম গাজীর ছেলে রুবেল গাজী, ৮. চাঁন খার দোকান এলাকার বারেক খানসহ সংঘবদ্ধ কয়েকজন চক্রান্ত শুরু করেছে। তারা আসামীর জামিন নেয়ার জন্য অনেক অর্থ খরচ করে এবং নতুন করে আমাকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়-ভিতি প্রদর্শন ও প্রাণ নাশের হুমকিসহ বিভিন্ন চক্রান্তে লীপ্ত হয়েছে। যার কারণে আমি প্রাণ ভয়ে জীবন বাঁচাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে গোপন স্থানে অবস্থান করছি। এছাড়াও আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর আইনী সহায়তা চেয়ে দরখাস্ত এবং চাঁদপুর সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছি।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’