বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

শাহরাস্তি খামপাড় আল ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা

দুই জেলার ১৮৭ জনের অংশ গ্রহণে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, বিজয়ী হলেন ৫৫ হাফেজ

মোঃ রুহুল আমিন (ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক) প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৭:০৫ পিএম
দুই জেলার ১৮৭ জনের অংশ গ্রহণে হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা, বিজয়ী হলেন ৫৫ হাফেজ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের খামপাড় আহমেদীয়া হাফিজীয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে আল ইনসাফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

২২ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সকাল ৭ ঘটিকা থেকে (যোহর ও আছর নামাজ সহ মধ্যাহ্নভোজের বিরতি বাদে) একটানা পবিত্র কুরআন মজিদের ৫ পারা অনুর্ধ্ব ১২ বছর এবং ১০ পারা অনুর্ধ্ব ১৪ বছর বয়সী হাফেজদের প্রতিভার সন্ধানে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে চাঁদপুর এবং কুমিল্লা জেলার মোট ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ১৮৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তন্মধ্যে ৫ পারা সম্পন্ন ৩০জন এবং ১০ পারা সম্পন্ন ২৫জন হাফেজকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

বাদ মাগরিব কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মোঃ শেখ ফরিদের সঞ্চালনায় ও ঢাকাস্থ মেডিলাইফ স্পেশাল হসপিটাল এর এ এম ডি শাহজাহান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিযোগিদের মাঝে আর্থিক পুরস্কার সহ শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

Model Hospital

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘী কামিল মাদরাসার অধ্যাপক হজরত মাওলানা আবুল হোসেন।

প্রধান আলোচক তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র কুরআন মজিদ যারা সহি শুদ্ধভাবে পড়বেন এবং তা মেনে চলবেন মহান আল্লাহ তাদের জন্য আল্লাহর সকল রহমত দান করেন। যারা কুরআন মজিদ মুখস্থ তেলাওয়াত করেন তারা সোয়াব পাবেন কিন্তু যারা কুরআন মজিদ সহি শুদ্ধভাবে বুঝে তেলাওয়াত করবেন তারা সম্পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবেন। তাই তিনি আহ্বান জানান, পবিত্র কুরআন মজিদ সহি শুদ্ধভাবে পড়ার ও বুঝার জন্য হাফেজদের প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করুন এতে যারা অংশগ্রহণ করবেন তারা পরকালীন জীবনে মুক্তির পথ খুঁজে পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এম এস ক্রিয়েটিভ ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, আজকের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ নতুন একটি উদ্যোগ। আমরা চেষ্টা করেছি এই অনুষ্ঠানটিকে সফল ও সার্থক করতে। নতুন উদ্যোগ হিসেবে কোন ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের এই ভুল ত্রুটিগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এবং ভবিষ্যতে যেন এই ভুল ত্রুটি না হয় আমরা সেদিকে খেয়াল রাখবো।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকাস্থ ভি আই পি ল্যান্ডমার্ক লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ বিল্লাল হোসেন বেলাল, আব্দুল মজিদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সালাউদ্দীন, ফটিখিরা এস এ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক ও খামপাড় আহমেদীয়া হাফিজীয়া মাদরাসার সেক্রেটারী দীন মোহাম্মদ, ঢাকাস্থ মেডিলাইফ স্পেশাল হসপিটাল এর পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ আবু সাঈদ ও রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির সালাউদ্দীন গাজী সহ প্রমুখ। অতঃপর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হাফেজদের মাঝে আর্থিক ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হাফেজদের মধ্যে ৫ পারা সম্পন্নদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন যথাক্রমে ইব্রাহিম খলিল, মোঃ আহাম্মদ রেজা এবং মোঃ আবু রায়হান। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ৭ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৪ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ২ হাজার টাকা সহ প্রত্যেককে শিক্ষা সামগ্রী সহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

অপরদিকে ১০ পারা সম্পন্ন হাফেজদের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন যথাক্রমে মোঃ তানভীর হোসেন, মোঃ সোহান আহমেদ এবং মোঃ জুনায়েদ হোসেন। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে ১০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৫ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৩ হাজার টাকা সহ প্রত্যেককে শিক্ষা সামগ্রী সহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

নির্বাচিত বাকি ৪৯জন হাফেজের প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা সহ শিক্ষা সামগ্রী দিয়ে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাকি ১৩২জন প্রতিযোগিদের প্রত্যেককে শান্তনা পুরস্কার হিসেবে শিক্ষা উপকরণ সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হতে আগত প্রত্যেক শিক্ষকে আর্থিক প্রণোদনা সহ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ঘোষণা করেন, খামপাড় গ্ৰামে ইতোমধ্যে ৪০জন কুরআনে হাফেজ হয়েছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে ৩৫জন হাফেজ ও মাওলানাকে ক্রেস্ট প্রদান করে ভুষিত করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ খোরশেদ আলম। এছাড়াও শাহরাস্তি উপজেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার কুরআন মজিদের ভক্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমান, বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উপহার সামগ্রী বিতরণ শেষে বা’দ এশা এক মনোজ্ঞ ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উক্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঢাকার অনুপম শিল্পী গোষ্ঠীর (সাবেক সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী) শিল্পী মাস্টার আব্দুল্লাহ্ বিন ফায়েজ, শিল্পী ডাঃ আনিছুর রহমান ও তার দল এবং ফারুক খান, শাহ্ কামাল ও তার দল। এই ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের রাত এগারোটা পর্যন্ত চলে।

মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২১ পিএম
মতলব দক্ষিণে অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান কাজী
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাছুয়াখাল জমাদার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকান্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় দলীয় নেতাকর্মী ও ইউনিয়নের গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পরিদর্শনে যান তিনি। এসময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনার পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সুলতান কাজী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদেরও সমন্বয় করা উচিত। যে কোনো দুর্যোগে খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার জন্য আমি প্রস্তুত আছি।
পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সদস্য ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সরকার, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও ইউপি সদস্য শহীদ মিয়াজী, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মিঞা মো. ফারুক, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা, বিএনপি নেতা তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মো. সুমন মোল্লা, যুবদল নেতা রুবেল কাজী, কামাল প্রধান, মিজান কাজী, ছাত্রদল নেতা রাশেদ কাজী, সমাজসেবক আলি আক্কাস মিয়াজীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর ও ৫টি রান্নাঘর, স্বর্ণালাংকার, নগদ অর্থ  পুড়ে যায়, এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পরিবারগুলোর। বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।