শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ডিবি

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১ মার্চ, ২০২৫, ১:৫৭ পিএম
এবার বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ডিবি

আসন্ন রমজানে ডিবি পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক।

তিনি বলেছেন, বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘অলআউট অ্যাকশন’ চালানো হবে। আমরা যেমন সাধারণ মানুষের আস্থা হতে চাই, তেমন অপরাধীদের জন্য হতে চাই আতঙ্ক। এই মূলনীতি নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শনিবার (১ মার্চ) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার উদ্দেশে ডিবি কর্তৃক পরিকল্পিত কার্যক্রম’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব বলেন তিনি।

রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলস ভূমিকা পালন করছে। আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে ডিবি নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এটি হবে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান। অভিযানে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যে থেকে অপরাধীদের আটক করবে। রমজানে মানুষের কর্মযজ্ঞ বাড়ে। বিশেষ করে টাকার লেনদেন বেশি হয়। ব্যাংক ও বিমাসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের ভিড় বাড়ে। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ টার্মিনালে মানুষের ভিড় বাড়ে। এসব স্থানে কেউ যেন নাশকতা ঘটাতে না পারে সেজন্য আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া দূরের যাত্রা পথে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটানো হয় সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Model Hospital

গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা চুরি ডাকাতি ও ছিনতাই করছে, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। তারা অনেকেই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। এ অপরাধীদের ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল তাদের ইন্ধন দিয়ে অপরাধে জড়াতে সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনীর কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে আমরা অলআউট অ্যাকশনে যাচ্ছি।

যৌথ বাহিনীর তৎপরতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়েছে। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সেনাবাহিনী। আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তাদের সহযোগিতা করছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। আমরা আশা করছি আরও ভালো অবস্থা দেখতে পাবেন। ডিএমপিতে সাদা পোশাকে ডিবি পরিচয়ে কাউকে তুলে নেওয়া বা আটক করলে আমাদের জানাবেন। পাশাপাশি নাশকতার কোনো তথ্য থাকলে ডিবিকে সহযোগিতা করবেন। তথ্য দাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

ডিবিপ্রধান বলেন, আমরা যেমন সাধারণ মানুষের আস্থার স্থল হতে চাই। তেমন অপরাধীদের জন্য হতে চাই আতঙ্ক। এই মূলনীতি নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ছোট অপরাধ বড় অপরাধের জন্ম দেয়। তাই যেকোন অপরাধ এবং অপরাধীর ক্ষেত্রে আমরা নিয়েছি জিরো টলারেন্স নীতি।

চুরি ছিনতাই ডাকাতি রোধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজকে মাদকের থাবা থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রতিনিয়ত পরিচালনা করা হচ্ছে মাদকবিরোধী অভিযান। চিহ্নিত সন্ত্রাসী হোক বা যেকোনো অপরাধীই হোক ডিবির জালে তাদের ধরা পড়তেই হবে। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। এদের আমরা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবো না।

পবিত্র রমজান মাসে নগরবাসী যাতে নিরাপদে ইবাদত করতে পারেন সেজন্য ডিবির কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি করা হবে। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, যেকোন প্রয়োজনে ডিবি আপনাদের পাশে থাকবে।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’