শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

রোজ প্যাটেল-২-এ কোরআন খতম মিলাদ দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ মার্চ, ২০২৫, ৭:৪২ পিএম
রোজ প্যাটেল-২-এ কোরআন খতম মিলাদ দোয়া ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন

চাঁদপুর শহরের প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত রোজ প্যাটেল-২,১-এ’ পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে এখানকার বসবাসকারী বাসিন্দারা মহান আল্লাহ্ পাকের সন্তস্টি ও আদেশ পালন করতে গিয়ে এ টাওয়ারের নীচে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও এখানে পবিত্র রমজানের তারাবি নামাজ আদায়ের লক্ষে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা গ্রহন করেন, টাওয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ের যুবকরা। তারা নামাজ, রোজা, আদায়ের মধ্যদিয়ে ২শতাধিক ধর্মপ্রান মুসলমানদের নিয়ে ইফতারের আয়োজন করেন।

সে জন্যই এ টাওয়ারে পবিত্র রমজান উপলক্ষে আজ সোমবার (১০মার্চ) বাদ আছর থেকে মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। পরে এ টাওয়ারের ২শতাধিক ধর্মপ্রান মুসলমানের ইফতার করার মাধ্যমে এখানে মাদ্রাসার ছাত্র,এতিমদের উপস্থিতিতে ও সকল রোজাদাররা পবিত্র ইফতারের মধ্যদিয়ে রোজা পালন করেন।

পবিত্র এ কোনআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে কোরআন খতম,মিলাদ,দোয়া ও ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন,শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিস্টান আল-আমিন একাডেমি এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: সাইফুল ইসলাম,আবুল খায়ের গ্রুপের এরিয়া ম্যানেজার মো: কবির হোসেন,বাবুরহাট কলেজের অধ্যাপক রোটারিয়ান মো: জাকির হোসেন,চাঁদপুর প্রেস কøাবের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ শওকত আলী,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো:বাবু পাটওয়ারী,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মো: হারুনুর রশিদ হারুন,বিশিষ্ঠ ঠিকাদার কাউছারুল ইসলাম, বিশিষ্ঠ ঠিকাদার মো: আফতাব হোসেন,ব্যবসায়ী আব্দুল করিম হাওলাদার,প্রান ও এসিআই পরিবেশক মো: হাসান আলী সেন্টুসহ শহরের গন্যমান ব্যক্তিবর্গ।

মিলাদ ও দোয়ায় মুনাজাত পরিচালনা করেন,মহামায়া সিনিয়র মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা মো: শাকিল পাটওয়ারী।

Model Hospital

মুনাজাতে সকল ধর্মপ্রান মুসলমানের শান্তি কামনা,দেশ জাতির কল্যান কামনা করা হয়। সকল মৃত মুসলমানের কবরে শান্তি ও মহান আল্লাহ্ পাক যেন তাদের জান্নাতবাসী করেন সে জন্য মহান আল্লাহ্ কাছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিলেন,মো: আব্দুল রহিম ও মো: রাসেল তালুকদার প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’