শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ৮:১২ পিএম
চাঁদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে বদর দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ইফতার মাহফিল।

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার আয়োজনে বদর দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের ষোলঘর মাদ্রাসা মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান।

বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা তারেক হাসানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মোজাম্মেল হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি হাফেজ নেয়ামত হোসাইন, সাবেক সভাপতি মুফতি নূরে আলম।

বক্তারা বলেন, আজ ১৭ রমজান ঐতিহাসিক বদর দিবস। পবিত্র মাহে রমজান একটি মহিমান্বিত মাস। আর ১৭ রমজান মুসলমানদের ইতিহাসের একটি তাৎপর্যময় দিন। প্রতি বছর ঘুরে এ মাসটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। বদর দিবস প্রমাণ করে মুসলমানদের ঈমানী শক্তি যে কোন অস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।

Model Hospital

বক্তারা আরো বলেন, একটি ন্যায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দেশে ইসলামি খেলাফত কায়েমের বিকল্প নেই। দেশের তরুণ সমাজকে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এখনই সময়। এই দেশ থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, খুন, ধর্ষণ নির্মূল করতে হলে সকল ইসলামী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ বিনিময়ে সবাইকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা যুব মজলিসের পতাকাতলে এক হবার আহ্বান জানাই।

এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চাঁদপুর শহর শাখার সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলার যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা আবু হোরায়রা, যুব মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শাহেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক হাফেজ মাওলানা হামিম।

উপস্থিত ছিলেন জেলা বায়তুলমাল সম্পাদক হাফেজ সানাউল্লাহ, অফিস সম্পাদক হোসাইন আহমদ, প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’