শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার পক্ষ থেকে

চাঁদপুরে কয়েক সহস্রাধিক মানুষ মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫, ৯:০৬ পিএম
চাঁদপুরে কয়েক সহস্রাধিক মানুষ মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
দেশের প্রখ্যাত দানবীর এবং শীর্ষ কর দাদা ও চাঁদপুরের  কৃতি সন্তান মরহুম হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার পক্ষ থেকে চাঁদপুরে গরিব ও অসহায় মানুষ মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। ২৬ মার্চ বুধবার সকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে সহস্রাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি কাপড় বিতরণ করা হয়।
ঈদ উপহার তুলে দেন হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার পুত্র মানিক মিয়া এবং মোস্তফা মিয়া।
এসময় মরহুম হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার পুত্র মানিক মিয়া বলেন, আমার বাবা মরহুম হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়া আপনাদের এই মাটির সন্তান। মানবিক এবং সামাজিক কাজের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি আমৃত্যু যেকোনো দুর্যোগ কিংবা দুর্ভোগে চাঁদপুরসহ সারা দেশে গরিব অসহায় মানুষের পাশে ছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকতে অনেক ভালো কাজ করেছেন। তিনি আজ বেঁচে নেই। বাবার সন্তান হিসেবে আমরা ভাই-বোনেরা যেন বাবার রেখে যাওয়া ভালো কাজগুলো করে যেতে পারি, সেজন্য আপনারা আমাদের দোয়া করবেন। আজকে আমরা আপনাদের জন্য ঈদ উপহার নিয়ে এসেছি। এর বিনিময়ে আপনারা আমার মরহুম বাবার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন। আর আমরা যাতে আগামী দিনেও আপনাদের যেকোন বিপদে আপদে পাশে থাকতে পারি, সেজন্য দোয়া করবেন।
ঈদ উপহার বিতরণে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, চাঁদপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক শামসুল আলম সূর্য, সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী (মামনি ক্লথ স্টোর) নূর-এ আলম রিপন, চাঁদপুর শহর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, যুগ্ম আহ্বায়ক কবির খান, সদস্য মেহেদী হাসান খান জনি, সাইফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেউদ্দিন মাসুদ বেপারী, সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হান্নান, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুল আমিন সোহাগ সরকার প্রমুখ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’