শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে যাত্রী সংকটে লঞ্চ চলাচল বন্ধের পথে

প্রিয় চাঁদপুর ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ মে, ২০২৫, ১২:১৭ এম
চাঁদপুরে যাত্রী সংকটে লঞ্চ চলাচল বন্ধের পথে

চাঁদপুরে যাত্রী সংকটে অর্ধেকে নেমেছে লঞ্চ চলাচল। ঢাকা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রতিদিন যেখানে অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করতো সেখানে এখন মাত্র ২০-২৫টি চলাচল করছে। লোকসানের মুখে এ রুটে যাতায়াতকারী অধিকাংশ লঞ্চমালিক কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন।

এদিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রী কমায় প্রভাব পড়েছে যানবাহন ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। যাত্রী কমে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক বিভিন্ন কাজে চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে লঞ্চের শ্রমিক থেকে শুরু করে যানবাহন চালক ও ব্যবসায়ী অলস সময় পার করছেন।

লঞ্চের স্টাফ ও মালিক প্রতিনিধিরা জানান, আগে দক্ষিণাঞ্চলসহ আশপাশের মানুষ এ রুট ব্যবহার করত। পদ্মা সেতু ও সড়ক পথ উন্নত হওয়ায় যাত্রীরা বাস ও ভাড়ায়চালিত মাইক্রো প্রাইভেটকারে যাতায়াত করছেন। তবে বর্ষা ও কালবৈশাখী মৌসুমে নদীপথে যাত্রী কমে যায় অনেকটা।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এমভি রহমত লঞ্চের সুপারভাইজার সোহেল ও কেরানি আলমগীর জানান, আগে বছরে দুটি ঈদ ছাড়াও বিশেষ দিনগুলোতে যাত্রী পরিপূর্ণ ছিল লঞ্চগুলোতে। এছাড়া সাধারণ সময়ে যা খরচ হতো মোটামুটি সেটি পুষিয়ে নেওয়া যেত। কিন্তু গত দু-তিন বছর ধরে যাত্রী কমেছে। যার কারণে অনেক লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ লঞ্চ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। যে সব মালিকের তিন-চারটা লঞ্চ চলাচল করতো লোকসান হওয়ায় এখন একটি লঞ্চ চলাচল করে।

Model Hospital

তারা আরও জানান, প্রতিদিন একটি লঞ্চে যাতায়াত খরচ হয় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা। এরমধ্যে লঞ্চের শ্রমিকদের বেতন তো আছে। বর্তমানে প্রতি সার্ভিসে ২০-৩০ হাজার টাকা লোকসানের মুখে পড়ছে লঞ্চ মালিকরা। আগে ঢাকা-চাঁদপুর অধিকাংশ লঞ্চ যাতায়াত করলেও যাত্রী কমায় এখন লঞ্চগুলো অন্য রুটেও যাতায়াত করছে।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এমভি রহমত লঞ্চের যাত্রী মঞ্জু আহমেদ বলেন, লঞ্চে যাতায়াত করা অনেকটা আরামদায়ক। তবে দ্রুত যাতায়াত করার জন্য অধিকাংশ সময় সড়ক পথে ঢাকা যাতায়াত করি। বিশেষ করে এ সিজনে অনেক ঝড় তুফান হয়। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় অনেকে লঞ্চে করে যেতে চায় না।

চাঁদপুর লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার জানান, প্রথমত সড়কপথে যাতায়াত সুবিধা হওয়ায় যাত্রীরা এখন সেখানে ঝুঁকছেন। দ্বিতীয়ত বৈরী আবহাওয়ার কারণে মানুষ এখন লঞ্চে উঠতে চায় না। এছাড়া যত্রতত্র স্ট্যান্ড বসিয়ে কম টাকায় মাইক্রো-প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে। আমি মনে করি বিআইডব্লিউটিএ ও মালিকরা যৌথ সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে লঞ্চের সেবা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি আরও জানান, এখন প্রতিটি লঞ্চ লোকসানের মুখে। অনেক মালিক বাধ্য হয়ে লঞ্চ বন্ধ করে দিচ্ছেন।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক বসির আলী খান জানান, ঢাকা-চাঁদপুর রুটে সব সময় কিছু না কিছু যাত্রী থাকে। তবে সড়ক পথে সময় কম লাগায় এখন মানুষ বাস ও মাইক্রোবাসে যায়। যারা নদীপথ আরামদায়ক মনে করেন তারাই লঞ্চে যাতায়াত করেন।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’