শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চাঁদপুরে ছাত্রসেনার স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চাঁদপুরে ছাত্রসেনার স্মারকলিপি

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি হস্তান্তর করছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার, বিচার চাইতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া ২১জন ছাত্র-যুবকের নি:শর্ত মুক্তি, মানবিক করিডোর এবং বিতর্কিত নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট বাতিলের দবিতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহোদয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখা। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিনের কাছে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার (১২ মে ২০২৫) দুপুরে ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. কামরুল হাসান বাবুর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন। সাথে ছিলেন ছাত্রসেনা চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ শাহাদাত হোসেন জাহিদসহ নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- গত ২৬ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি: ঢাকায় সর্বস্তরের সুন্নি জনতার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মুভমেন্ট ফর এ ফ্রি প্যালেস্টাইন কর্মসূচিতে মুসল্লি সমবেত উপস্থিত হয়েছিলেন বিধায় গাজীপুরে মাওলানা রইছ উদ্দিনের মসজিদের সুন্নি মতাদর্শের বিরোধী পক্ষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি।

তারা মতাদর্শগত বিরোধকে নৈপথ্যে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি, গাজীপুর কাপাসিয়া আখলাদুল জামে মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতিব মাওলানা রইস উদ্দিনকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মব তৈরি করে নির্মমভাবে প্রহার করে। পরবর্তীতে ২৮ এপ্রিল ২০২৫ খ্রি: কারাগারে পুলিশ হাজতে বিনা চিকিৎসায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

Model Hospital

গত ৫ মে ২০২৫ সোমবার সকাল ৯ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার আহ্বানে সারাদেশে ১৫০টি স্পটের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। তার মধ্যে ৪টি স্পটে ছাত্রসেনার নেতা কর্মীদের উপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা করে শতাধিক নেতা-কর্মীকে আহত করে।

অবরোধ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর তথাকথিত ঘটনা দেখিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা, যুবসেনা ও ইসলামী ফ্রন্টের ২১জন নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আমাদের দাবি হচ্ছে-
শহীদ মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মানবিক করিডোর বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে-অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকার যদি করিডোরের নামে রাখাইনের বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করে মায়ানমারের সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করে নেয়, তাহলে বাংলাদেশে সরাসরি এক বিপজ্জনক যুদ্ধ জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারে।

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। এ ধরনের নীতিমালা দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করতে পারে। বর্তমান নারী সংস্কার কমিশন বাতিল করে যোগ্য আলেম, বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদগণের সমন্বয়ে নারী সংস্কার কমিশন পুনর্গঠন করা দেশের স্বার্থে খুব প্রয়োজন।

আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা দেখতে চাই। জুলাই বিপ্লবের চরিত্রের উপর আঘাত করা কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ পুনরায় দেখতে চায় না দেশের সাধারণ জনগণ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’