শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

মতলবে আতিক উল্লাহর স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা

মনিরুল ইসলাম মনির প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ৯:০১ পিএম
মতলবে আতিক উল্লাহর স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা
চাঁদপুর জেলার অবিভক্ত মতলব উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম আতিক উল্লাহ সরকারের ১৫তম মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকালে মতলব উত্তর উপজেলার আমিনপুর গ্রামে আতিক উল্লাহ সরকারের নিজ বাড়িতে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ শামীম আহমেদ।
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বশির আহমাদ খাঁনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জিতু’র পরিচালনায় আয়োজিত স্মরণ সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবাইদুর রহমান টিপু, হাসানপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেন জামাল।
সভায় বক্তারা বলেন, মরহুম আতিক উল্লাহ সরকার ছিলেন অবিভক্ত মতলব উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি। তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত প্রাণ হিসেবে দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত ১৫ বছর আগে তিনি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন। কিন্তু কখনো এধরনের স্মরণ সভা আয়োজন করা যায়নি। চলমান ফ্যাসিবাদ মুক্ত রাজনৈতিক সময়ে মরহুম আতিক উল্লাহ সরকারকে স্মরণ করেন ও মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনার সুযোগ পেল স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল গণি তফাদার, যুব বিষয়ক সম্পাদক ফেরদৌস ইসলাম সোহেল, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ টিটু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম তোফাজ্জল হোসেন লিটন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাশেদ হাসান টিপু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহজালাল প্রধান, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, ফরাজীকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াছিন মোল্লা প্রমুখ।
স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের পুর্বে মরহুম আতিক উল্লাহ সরকারের কবরে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, কবর জিয়ারত করেন বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম
৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে গ্রামের সড়কের চিত্র বদলে দিলেন মসজিদের ইমাম রেজাউল

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। নিজের অর্থ ও উদ্যোগে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছের চারা রোপণ ও পরিচর্যা করে গড়ে তুলেছেন সবুজের আবরণ। তার লাগানো সারি সারি তালগাছে বদলে গেছে গ্রামের একটি সড়কের চিত্র।

স্থানীয়দের কাছে রেজাউল কিবরিয়া বাবুল একজন ইমাম হিসেবে পরিচিত হলেও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবেও রয়েছে তার আলাদা পরিচিতি। তিনি ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ইমামতির পাশাপাশি অবসর সময়ে গাছ লাগানো ও পরিচর্যায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন দশক আগে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেন রেজাউল কিবরিয়া। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভুঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে উৎপাদিত ও সংগ্রহ করা বিভিন্ন জাতের গাছের চারা এলাকার সড়কের পাশে রোপণ করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে মাইকিং করে স্থানীয়দের গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন।

তার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো তালগাছগুলো এখন বড় হয়ে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ। গাছের ছায়ায় পথচারী ও কৃষকেরা স্বস্তি পান। স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও এখন এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন।

Model Hospital

শুধু বাউল সড়ক নয়, ওমরপুর ইউনিয়নের আরও কয়েকটি সড়কের পাশেও গাছ লাগিয়েছেন তিনি। চারা রোপণের পর নিয়মিত সেগুলোর পরিচর্যাও করেন। অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেলেও বৃক্ষরোপণের কাজ থেকে পিছিয়ে যাননি তিনি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি কোনো প্রকল্পের অপেক্ষায় না থেকে একজন ইমামের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে গাছ লাগানোর এই প্রচেষ্টা শুধু একটি সড়কের সৌন্দর্যই বদলায়নি, বরং স্থানীয়দের মধ্যেও বৃক্ষরোপণের আগ্রহ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও যুবক তুহিন জানান, বাউল সড়কের দুই পাশে এখন শত শত তালগাছ রয়েছে। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠায় সড়কটির সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। বিকেল ও সন্ধ্যায় স্থানীয়রা সেখানে সময় কাটান। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই সড়কের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। রেজাউল কিবরিয়ার উদ্যোগ দেখে তারাও নিজেদের জায়গায় বেশি করে গাছ লাগাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমি প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি। ১৯৯৩-৯৪ সালে এ কাজ শুরু করি। এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার।’

তিনি বলেন, সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে গাছ লাগানোর কাজ থেকে কখনো সরে আসেননি। বর্তমানে নিজে নার্সারিতে চারা উৎপাদনের সময় না পাওয়ায় ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি থেকে বিভিন্ন ধরনের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করছেন।

তালগাছ লাগানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তালগাছ লাগানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বন বিভাগের পরামর্শও নিয়ে থাকেন।

রেজাউল কিবরিয়া আরও বলেন, ‘আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। একটি গাছ শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ছায়া, সৌন্দর্য ও উপকারের উৎস। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই গাছ লাগানোর এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

তার ভাষ্য, গ্রামের প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকা সবুজে ভরে তোলাই তার লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণদের খারাপ অভ্যাস থেকে দূরে রাখতে ফল ও ফুলের বাগান করার আহ্বান জানান তিনি।

রেজাউল কিবরিয়ার দীর্ঘদিনের উদ্যোগের বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।’